বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাট সদর ও রামপাল উপজেলায় যুব-নেতৃত্বে জলবায়ুতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি, সবুজ উদ্যোক্তা তৈরি, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সঠিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যুবকদের জন্য বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান, সুপেয় পানি ও টেকসই বেড়িবাঁধ নিশ্চিত, সাইবার সুরক্ষা এবং যুব-নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও বাজেট বরাদ্দ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে বাগেরহাট সদর উপজেলা হলরুমে অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও রামপালের আয়োজনে, বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থা ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এএসএম মঞ্জুরুল হাসান মিলনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়দেব চক্রবর্তী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিয়া খাতুন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল কাদের, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপপরিচালক ড. মনির হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তন্ময় দত্ত, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার বকসী, বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাসুম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সদর উপজেলা কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল পাটওয়ারী, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিবসহ পুলিশের সাইবার ইউনিট, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব এবং বাঁধনের শতাধিক যুব সদস্যরা।
অ্যাডভোকেসির উদ্দেশ্য ছিল সরকারি সেবা সংস্থাগুলোর গুণগত মান উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরে যুববান্ধব বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা, সুপেয় পানি ও টেকসই বেড়িবাঁধ নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষি কাজ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদন কমে যাচ্ছে। ফলে মানুষের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, স্থানান্তরের হার বাড়ছে এবং শহরমুখী চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।
সভায় যুব সদস্যরা নাটক পরিবেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং সমাধানের প্রস্তাবনা দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
এছাড়া যুব উন্নয়ন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যুববান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিভিন্ন ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাজার বিশ্লেষণ, চাহিদা নিরূপণ, বাজারসংযোগ (লিংকেজ) এবং ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের সমন্বয় করা জরুরি বলেও মত দেন বক্তারা।
যুব ও নারীবান্ধব বাজেট বরাদ্দ রাখা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তির বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
মাহফুজ মাঝির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী সোহাগ হাওলাদার, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ইন্সপিরেটর সুমন আচার্য এবং প্রজেক্ট অফিসার সানি জোবায়ের।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন