স্টাফ রিপোর্টার: সরকার ও বিরোধী দলের যে কেউ ব্যর্থ হলে পুরো সংসদ ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদীয় দলের নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী পক্ষের কেউই যেন অপর পক্ষকে ব্যর্থ করতে না চায়। সবাই মিলে সংসদকে সফল করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গত দেড় মাসে সংসদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। কিছু বিষয়ে মতভেদ থাকলেও বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে দেশের স্বার্থে সমাধান খোঁজার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সরকারকে ব্যর্থ করতে ১৭৩ দিনের হরতালসহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব এখনো দেশের মানুষ বহন করছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান তিনি।
কৃষিখাতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সংসদীয় দলের নেতা বলেন, শুধু ধানচাষী নয়, মাছচাষী ও গবাদিপশু পালনকারীদের কাছেও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনে সংসদ সদস্যদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষার মানোন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান অবস্থা পরিবর্তন করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের জন্য ধাপে ধাপে স্কুল ব্যাগ, স্কুল ড্রেস ও জুতার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া অর্থ ব্যয় নয়, এটি বিনিয়োগ। এই অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে বলেও তারেক রহমান মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, জনপ্রিয় কথা বলে হাততালি পাওয়ার সুযোগ থাকলেও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, সংসদে পপুলার নয়, সঠিক সিদ্ধান্তই নেওয়া উচিত।
শুরুতে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের নিহতদের এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত ও নির্যাতিতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এদিকে, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়েছে। মোট ২৫ কার্যদিবসে ৯৪টি বিল পাস হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি