রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: টানা বৃষ্টি ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। মাংস, মাছ ও সবজিসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর দক্ষিণ মুগদা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস, মুরগি, মাছ ও সবজির দাম আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের অনেকেই ৮০০ টাকার নিচে বিক্রি করতে অনিচ্ছুক। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের দোকানিরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে খরচ বেড়ে গেছে। মুগদা ছোট বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, ভাড়াও বেশি দিতে হচ্ছে। সামনে কোরবানির ঈদ ব্যবসায়ীরা সেই হিসাব ধরেই দাম ঠিক করছে।
ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে দাম বাড়ার কারণে। এক ক্রেতা বলেন, কয়দিন আগে ব্রয়লার ১৮০ টাকা ছিল, এখন ২০০। সবকিছুর দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ বাঁচবে কীভাবে?
মাছের বাজারেও একই চিত্র। পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকায়। এছাড়া ইলিশ ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০, রুই ৩২০ থেকে ৩৬০, কাতল ৪০০, টেংরা ৮৫০, এবং চিংড়ি ১,০০০ থেকে ১,২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারেও নেই স্বস্তি। ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। আলু ২০-২৫ টাকা হলেও অন্যান্য সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। শসা ১০০ টাকার ওপরে, কাঁকরোল ১২০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং অন্যান্য সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি পরিবহন খরচ বাড়ায় দামও বেড়েছে।
এক বিক্রেতা বলেন, “বৃষ্টির কারণে সবজি কম আসছে, আবার তেলের দামও বাড়ছে। তাই বাধ্য হয়েই দাম বেশি নিতে হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আবহাওয়া ও জ্বালানি খরচের চাপ দীর্ঘ হলে বাজারে পণ্যের দাম আরও অস্থির হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম