কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রায় অর্ধলাখ টাকাসহ সজল শেখ (২০) নামে এক তরুণ পাঁচদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ২৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টা থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। তিনি উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের শফিক শেখের ছেলে এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ ঘটনায় সজলের বাবা ও প্রতিষ্ঠানের মালিক থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বাবার অভিযোগ, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ছেলেকে ক্ষতির উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছে। এর আগে, ৭ এপ্রিল রাতে ছেলেকে মারধরের পর তাঁর কাছে থাকা নগদ প্রায় ৮০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল।
আর প্রতিষ্ঠানের মালিকের অভিযোগ, সজল বাজারের কালেকশনের প্রায় ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। ৭ এপ্রিল ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী পৌরসভার তেবাড়িয়া এলাকায় দ্বীন মোহাম্মদ সাচ্চুর ডিলারশিপের ব্যবসা আছে। তিনি এসিআই গ্রুপের টিস্যুসহ অন্যান্য পণ্যের ডিলার। সেখানে সজল শেখ ডেলিভারি ম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত রয়েছেন। ২৯ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে সজল ডিলার পয়েন্ট থেকে ভ্যানে মাল নিয়ে বিভিন্ন দোকানে ডেলিভারি করেন এবং নগদ টাকা কালেকশন করেন। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর মোবাইল নম্বরটি (০১৭৮৭৬০০৫৩৬) বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সজলকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক থেকে ভ্যানটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার সকালে ডিলার পয়েন্টের মালিক দ্বীন মোহাম্মদ সাচ্চু বলেন, ৭ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে সজল এসে বলে, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের জিলাপীতলা থেকে ছিনতাইকারীরা তাকে (সজল) মারধর করে ৮৫ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় ৯ এপ্রিল থানায় অজ্ঞাত আসামি করে লিখিত অভিযোগ করা হয়। কয়েকদিন আগে ওই অভিযোগের তদন্ত করে দেখা গেছে, ছিনতাইয়ের ঘটনাটি সজলের সাজানো ছিল।
তাঁর ভাষ্য, কানাঘুষার মাধ্যমে তদন্তের বিষয়টি সজল টের পেয়ে যায়। ভয়ে ২৯ এপ্রিল রাতে সজল ভ্যান রেখে সারাদিনের কালেকশনের প্রায় ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছে। তাঁর মোবাইলটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বিচারের আশায় থানায় আবারও লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
সজলের বাবা শফিক শেখ বলেন, এর আগে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিল সজল। আবার ২৯ এপ্রিল রাত থেকে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে। ও (সজল) জীবিত না মৃত, তা বুঝতে পারছি না। ওকে (সজল) পাওয়া গেলে দুটি ঘটনারই আসল কারণ জানা যাবে।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগের পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ভিকটিম স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারের পর বিস্তারিত জানানো যাবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন