শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রুগী বেশে বেড়েছে চুরি ও ছিনতাই। কোন ভাবেই চোর শনাক্ত ও চুরিরোধ করতে পারছেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালে আসা রুগী ও তাদের স্বজনদের নিকট থেকে সুকৌশলে টাকা ও দামী গয়নাসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র। দীর্ঘদিন ধরে এ চোর চক্রটি রুগীবেশে চুরি করে থাকলেও তাদের ধরা বা শনাক্ত করতে পারছে না। ফলে সাধারণ রুগী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রয়েছেন চরম উদ্বিগ্নের মধ্যে।
হাসপাতাল গিয়ে বিভিন্ন রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন এই হাসপাতালের বহির্বিভাগে নানান বয়সী শতশত রোগীদের আগমন ঘটে থাকে। যে কারণে রুগীদের দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থেকে টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ, চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহন ও ওষুধ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। আর এসময়টিকে কাজে লাগায় চোরচক্র। রুগীদের ভীড়ের চাপে সুযোগে বুঝে এই চক্রটি নারীদের পাশে থেকে তাদের ব্যাগ থেকে টাকা, দামী গয়নাসহ নানা ধরণের মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে গাঢাকা দেয় চোরেরা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা চোরচক্রের শিকার তখলপুর গ্রামের নূর জাহান বেগম বলেন, তিনি গত কয়েকদিন আগে ব্যাংক থেকে ১০ হাজার উত্তোলন করে তার ব্যাগে রেখে ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে যান। কিছুসময় সিরিয়ালে থেকে ডাক্তার দেখিয়ে বাইরে এসে দেখেন তার ব্যাগে সেই ১০ হাজার আর নেই। চোরেরা সুযোগ বুঝে তার ব্যাগ থেকে টাকাটি চুরি করে নেয়। একই সময় আরেকজনের কানের দুল সুকৌশলে চুরি করে নেয় চোরচক্র। তখন তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই হাসপাতালে আমাদের মত সাধারণ রুগীদের কোনো নিরাপত্তা নেই।
উপজেলার হোগলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা নন্দিতা দাস বলেন, তিনি টিকিট কাউন্টারে সামনের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার সামনে একজন এবং পেছনে একজন বোরখাপড়া নারীও দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে টিকিটটি তার ব্যবহৃত ছোট পার্সে ভরে বড় পার্সটি ভ্যানিটি ব্যাগে রেখে দেন। কিছুসময় পর তিনি দেখেন তার ভ্যানিটি ব্যাগের মধ্যে রাখার পার্সসহ ১০ হাজার টাকা আর নেই। চোরেরা কোন এক সময় পার্সটি চুরি করে নিয়ে গেছে।
ফরিদা বেগম নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, হাসপাতালে টিকিট কাউন্টারে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার সময় পেছন থেকে এক বোরখা পরা মহিলা হঠাৎ তার গলার চেইনে হাত দেয়। তখনও তিনি বুঝতে পারেন নি বিষয়টি কি ? টিকিট কেটে ডাক্তার দেখিয়ে বাসায় ফিরে দেখেন তার গলায় সেই সোনার চেইনটি আর নেই।
রুনা বেগম বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে তারও বেশকিছু টাকা খোয়া যায়।
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা ষাটোর্ধ আলমগীর হোসেন বলেন, চোরেরা মূলত চিকিৎসা নিতে আসা নারীদের টার্গেট করে এবং সুযোগ বুঝে টাকা ও সোনাদানা নিয়ে নেয়। এ ধরণের ঘটনা অহরহ ঘটছে হাসপাতালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে বারবার বিষয়টি জানানো হলেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
এবিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আশরাফুজ্জামান লিটন বলেন, অহরহ এমন ঘটনায় আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছি। অনেক চেষ্টার পরেও কোন চোরকে আমরা সনাক্ত করতে পারছি না। চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনার পর থেকে রুগীদের বারবার সতর্ক হওয়ার জানানো হচ্ছে । তবে, সমন্বিত চেষ্টায় এ ব্যাপারে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবো বলে আশা রাখি।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু