রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট Meta Platforms-এর বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচার শুরু হতে যাচ্ছে, যার রায়ে Facebook ও Instagram-এর কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
অঙ্গরাজ্যের রাজধানী Santa Fe-তে সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে মেটা। পাশাপাশি তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে তরুণ ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে এতে যুক্ত থাকে।
নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল Raúl Torrez এই মামলা দায়ের করেন। তার অভিযোগ, মেটা কিশোরদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছে এবং যৌন শোষণসহ নানা হুমকি থেকে যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে পারেনি।
মামলার মূল প্রশ্ন হলো, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো ‘পাবলিক নিউসেন্স’ বা জনস্বার্থে ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে কি না। এটি প্রমাণিত হলে আদালত অ্যালগরিদম পরিবর্তন, বাধ্যতামূলক বয়স যাচাই কিংবা কিছু ফিচার বন্ধ করার মতো বড় সিদ্ধান্ত দিতে পারে।
এর আগে মার্চে মামলার প্রথম ধাপে জুরি বোর্ড রায় দেয়, মেটা ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে। সে সময় আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানার নির্দেশ দেয়। নতুন ধাপে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে, যা প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অর্থ দিয়ে ১৫ বছর মেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে নতুন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন ও চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
অন্যদিকে মেটা অভিযোগগুলোকে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, প্রস্তাবিত কিছু পরিবর্তন প্রযুক্তিগতভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নয়। এমনকি এসব শর্ত মানতে হলে নিউ মেক্সিকোতে তাদের সেবা বন্ধ করার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।
মেটা আরও বলেছে, কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়ী করা যায় না, কারণ তারা প্রতিদিন অসংখ্য অ্যাপ ব্যবহার করে থাকে।
এই মামলা শুধু নিউ মেক্সিকোতেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৪০টির বেশি অঙ্গরাজ্য এবং প্রায় ১ হাজার ৩০০ স্কুল জেলা একই ধরনের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘পাবলিক নিউসেন্স’ ধারণাটি আগে পরিবেশ দূষণ বা তামাক সংশ্লিষ্ট মামলায় ব্যবহৃত হলেও এখন প্রযুক্তি খাতেও এর প্রয়োগ শুরু হয়েছে। ফলে এই মামলার রায় ভবিষ্যতে প্রযুক্তি শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আদালতের রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নকশা, কিশোরদের নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদি বড় ধরনের পরিবর্তনের নির্দেশ আসে, তবে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পেও প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম