রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দিনের শুরুতে শরীর সতেজ থাকলেও দিনের মাঝামাঝি সময়েই অনেকের ক্লান্তি ভর করে। পুষ্টিবিদদের মতে, এর পেছনে বড় কারণ হতে পারে আমাদের প্রতিদিনের কিছু পরিচিত খাবার। এসব খাবার প্রথমে দ্রুত শক্তি দিলেও পরে তা হঠাৎ কমে গিয়ে শরীরকে আরও অবসন্ন করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে আবার দ্রুত কমিয়ে দেয়, আবার কিছু খাবার হজম করতে শরীরের অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় হয়। ফলে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৫টি খাবার সম্পর্কে
ফলের রস
ফলের রস অনেকেই স্বাস্থ্যকর মনে করেন, কিন্তু এতে ফাইবার না থাকায় এটি দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে কিছুক্ষণ পরেই শক্তি কমে গিয়ে ক্লান্তি অনুভূত হয়। এর পরিবর্তে আস্ত ফল খেলে শরীর ধীরে ধীরে শক্তি পায় এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ঘন ঘন ক্যাফেইন গ্রহণ
চা বা কফি সাময়িকভাবে চাঙা করলেও অতিরিক্ত নির্ভরতা শরীরের স্বাভাবিক শক্তির ছন্দ নষ্ট করে দেয়। নিয়মিত বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করলে দিনের শেষে ক্লান্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই পরিমিত মাত্রায় চা-কফি পান করাই ভালো।
ক্রিমি পাস্তা বা সাদা ভাত
ভারী ও সমৃদ্ধ খাবার যেমন ক্রিমি পাস্তা বা অতিরিক্ত সাদা ভাত হজম করতে শরীরের বেশি শক্তি লাগে। এতে খাওয়ার পর ঘুমঘুম ভাব বা অলসতা তৈরি হয়, যাকে অনেক সময় ‘ফুড কোমা’ বলা হয়। এসব খাবারে ফাইবার ও প্রোটিন কম থাকায় শক্তিও দ্রুত কমে যায়।
চিনিমুক্ত এনার্জি ড্রিংকস
‘চিনিমুক্ত’ লেখা থাকলেও এসব পানীয়তে কৃত্রিম মিষ্টি ও উত্তেজক উপাদান থাকে, যা শরীরের স্বাভাবিক শক্তির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। সাময়িক শক্তি দিলেও পরে ক্লান্তি ও অস্থিরতা বাড়ায়। এর বদলে প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নেওয়া ভালো।
বিস্কুট
বিস্কুট সাধারণত পরিশোধিত ময়দা ও চিনি দিয়ে তৈরি হয়। এতে দ্রুত শক্তি মিললেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। বরং কিছুক্ষণ পরেই আবার ক্লান্তি দেখা দেয়। নিয়মিত বিস্কুট খেলে শরীর এই ওঠানামার মধ্যে পড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় শক্তি ধরে রাখতে চাইলে ফাইবার, প্রোটিন ও প্রাকৃতিক খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম