ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জের পারপুগী গ্রাম এখন কৃষকের সাফল্যের গল্পে ভরপুর । বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কৃষকের পরিশ্রমের ফল পাকা ভুট্টা দোল খাচ্ছে । অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত জাত ব্যবহারের কারণে এ বছর জেলায় বিএডিসি হাইব্রিড ভুট্টা -৩ ( বি -৩৩৫৫ ) জাতের বাম্পার ফলন হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারদর স্থিতিশীল থাকায় কৃষকের আয়ও বেড়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি এনেছে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার শিবগঞ্জ পূর্ব পারপূগী গ্রামে উচ্চফলনশীল এই জাতের প্রচার ও প্রসারে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) উদ্যোগে মাঠ দিবস ও ‘ ক্রপ কাটিং ' অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দুই শতাধিক কৃষক সরাসরি অংশ নিয়ে নতুন জাতের ফলন ও সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণ করেন। স্থানীয় কৃষক মো. ইব্রাহিম জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে এ জাতের ভুট্টা চাষ করেছেন।
তাঁর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ৫০ শতকে ৯০ থেকে ১০০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন,আমার পাঁচ বিঘা জমিতে প্রায় ৪০০ মণ ফলন হবে বলে আশা করছি। খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা, বিক্রি করলে আয় হবে তিন লাখ টাকার বেশি। সব খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ থাকবে।
একই গ্রামের কৃষক মো. আমিরুল ইসলাম ২৫ শতক জমিতে চাষ করে ৪৫ মণ ভুট্টা পেয়েছেন। তিনি বলেন, অন্য জাতে যেখানে ৭০-৮০ মণ হয়,সেখানে বিএডিসির এই হাইব্রিড জাত দিচ্ছে ৯০ মণের ওপরে । প্রতি বস্তা ১ হাজার ৬৪০ টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় দ্বিগুণ লাভ হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, বৃষ্টির কারণে বাজার এখনো পুরোপুরি চাঙা হয়নি। বর্তমানে প্রতি বস্তা ভুট্টা ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। বাজার পুরোদমে শুরু হলে দাম আরও বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিএডিসির মহাব্যবস্থাপক ( বীজ ) মো. আবির হোসেন বলেন, কৃষকের দোরগোড়ায় উন্নতমানের বীজ পৌঁছে দিতে বিএডিসি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। হাইব্রিড ভুট্টা -৩ জাতটি কৃষকের ভাগ্য বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএডিসির অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক ( বীপ্রস ) মো . মোসাব্বের হোসেন রিন্টু, অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক ( বীজ ) মো . সেলিম হায়দার, প্রকল্প পরিচালক মো . হুমায়ন কবির এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার নাথ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএডিসি শিবগঞ্জ উপপরিচালক মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন খান।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু