প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 06-05-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ নাছোড়বান্দা’ মমতা, কি হবে শেষ পর্যন্ত?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধরনের পরাজয় ঘটেছে। তবে এ পরাজয় মানতে নারাজ দলটির প্রার্থী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে যথাসময়ে শপথ অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
রাজ্যে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ফল প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ২০৭টি আসন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। ফলপ্রকাশের পরও থামেনি তৃণমূল-বিজেপি দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতাসহ চলমান রয়েছে দুই পক্ষের পালটা-পালটি অভিযোগ। কেউ কেউ ভোটের ফল মানতে নারাজ, কেউবা আবার ইতোমধ্যেই করছেন উদ্যাপন।
নির্বাচনে তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ মোট ২২ জন মন্ত্রী নিজেদের আসনে পরাজিত হয়েছেন। যা মোট সংখ্যার প্রায় ৬৩ শতাংশ।
নির্বাচনে হারলেও পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। মমতা জানান, ১০০ আসন জোর করে লুট করা হয়েছে। এসআইআর করে ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে। এরকম কোনো ভোটে দেখিনি। আমি ভোটে হারিনি। কেন পদত্যাগ করব। আমরা হারিনি, তাই রাজভবন কেন যাব?
তার বলেন, সব পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। ভোটের আগে নির্বাচকদের বদল করা হয়েছে। ভোটের দিন দুয়েক আগেই আমাদের একাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত যদি মমতা পদ না ছাড়েন তাহলে তাকে বরখাস্ত করতে পারেন গভর্নর। এ জন্য রাজভবন থেকে জারি করতে হবে একটি বিশেষ অধ্যাদেশ।
ভারতের সংবিধানের ১৭২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রতিটি রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা, যদি তার আগে ভেঙে দেওয়া না হয়। তবে তার প্রথম বৈঠকের জন্য নির্ধারিত তারিখ থেকে পাঁচ বছরের জন্য বলবৎ থাকবে এবং এর বেশি নয় এবং উক্ত পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলে বিধানসভাটি ভেঙে দেওয়া হবে।
৭ মে সময়সীমার আগে মমতা সিদ্ধান্ত বদল না করলে ভারতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম হবে। কারণ, ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে এবং রাজনৈতিক দলে নির্বাচনের পর একাধিকবার ক্ষমতার হস্তান্তর হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর বিদায়ি মুখ্যমন্ত্রীরা সরে দাঁড়িয়েছেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছেন।
সার্বিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল সুস্পষ্ট হলেও রাজ্যজুড়ে এখনো চলছে উত্তেজনা। দু পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থানের ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না। কবে নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ আবার চিরচেনা রূপে ফিরবে তাও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।