স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রতি আসরেই ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা এবার নতুন মোড় নিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন থেকে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধের কোনো দায়ভার বিসিবি বহন করবে না।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিসিবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল বিপিএলের গত দুই আসরের পারিশ্রমিক ইস্যুতে কড়া সমালোচনা করেন। উল্লেখ্য, সর্বশেষ দুই আসরে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফারুক আহমেদ ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল। একাদশতম আসরে ফারুকের মেম্বার সেক্রেটারি ছিলেন নাজমুল আবেদিন ফাহিম। অন্যদিকে দ্বাদশ আসরে আমিনুলের মেম্বার সেক্রেটারি ছিলেন ইফতেখার রহমান মিঠু।
তামিম মনে করেন, পারিশ্রমিক নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তার দায় তৎকালীন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে বলেন ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচনের সময়ও কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে। ফলে পরবর্তীতে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক না পাওয়ার দায় এসে পড়েছে বিসিবির ওপর। অথচ এই দায় নেওয়ার কথা ছিল সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর। এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে বোর্ডকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।’
কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির এমন সিদ্ধান্তের ফলে বিসিবির আর্থিক ক্ষতি হওয়ার দায়টা সেই ব্যক্তি কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহিতারই নিতে হবে বলে মনে করেন তামিম, ‘আমাদের স্পষ্ট অবস্থান হলো যে কেউ ভুল করলে সেটা আলাদা বিষয়, কিন্তু জেনে-শুনে নিয়ম ভঙ্গ করা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অনিয়মের দায় অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের নিতে হবে। গত বিপিএলে বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ কোটি টাকার মতো আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যার বড় অংশই একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সমস্যার কারণে বিসিবিকে বহন করতে হয়েছে।’
অতীতের অব্যবস্থাপনার উদাহরণ টেনে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘সিলেট ও নোয়াখালী দুইটা ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট খেলেছে, অথচ তাদের সঙ্গে এগ্রিমেন্টই সাইন হয়নি। এটা কি ভুল নয়? আপনি কি এটাকে স্বাভাবিক বা সঠিক বলতে পারেন।’
কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে এমন কথা বলছেন না বলেই জানালেন তামিম, ‘আমি আগেও যেটা বলেছি, আমি আসলে শুধু কথা বলিনি—আমি বিষয়গুলো এক্সপোজ করেছি, তথ্যসহ তুলে ধরেছি। আগে এগুলো সেভাবে সামনে আসেনি। কেউ যদি এই বিষয়গুলো চ্যালেঞ্জ করতে চান, আমরা সেটাকে স্বাগত জানাই। আমাদের কাছে সব হিসাব-নিকাশ আছে, আমরা সেগুলো দেখাতেও প্রস্তুত।’
একাদশতম আসরে ফিক্সিং নিয়ে রিপোর্টের পর আলেক্স মার্শাল দুইজনের ব্যাপারে আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু দ্বাদশ আসরে আমিনুলের বোর্ড তাদের উপরই আস্থা রেখেছে, ‘বোর্ডের ভেতরে এমন কোনো ব্যক্তি ছিলেন কি না, যার কারণে কোনো নির্দিষ্ট টিমকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে একজনের নাম খুব স্ট্রংলি এসেছে, অ্যালেক্স মার্শাল বলেছেন যে দুইজনের বিষয়ে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও একজনকে এই এডিশনে কন্টিনিউ করার জন্য পুশ করা হয়েছিল। আর আগের দুইজন গভর্নিং কাউন্সিল চেয়ারম্যান প্রসঙ্গে বললে, তারা দুজনই তখন বোর্ড প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ইন্টিগ্রিটি ইউনিট সবসময়ই প্রেসিডেন্টকে রিপোর্ট করে। তাই তারা অবশ্যই প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়ে নোটিফাই করেছিলেন—এবং সেই চিঠি আমি নিজেও দেখেছি।’
তবে যাদের কারনে বোর্ড আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাদের ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন কিনা সেই ব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি বোর্ড, ‘এটা আইনগতভাবে যাবে কি যাবে না, সেটা বোর্ডের বিষয়। দ্বিতীয়ত, বিপিএলের জন্য আলাদা একটি কমিটি থাকে। তাই বোর্ড প্রেসিডেন্ট একা কতটা যুক্ত ছিলেন বা ছিলেন না—এটা বলা আমার জন্য ঠিক হবে না। যদি আলাদা কমিটি থেকে থাকে, তাহলে সেই কমিটিরও জবাবদিহিতা থাকা উচিত—যদি সংশ্লিষ্ট সিজনগুলোতে কোনো ভুল হয়ে থাকে। কারণ, স্পষ্টভাবেই বলা যায়, এখানে ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টির জায়গায় ২ কোটি নেওয়া হয়েছে, বা চেক গ্রহণ করা হয়েছে—এগুলো অবশ্যই ভুল। আর এই ভুলগুলোর কারণেই আজ বিপিএল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এবং শেষ পর্যন্ত বিসিবিকেই আর্থিক দায় নিতে হচ্ছে।’
তামিম আরও বলেন, ‘শেষ বিপিএলে যিনি গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন, তিনি যদি সেই দায়িত্বে থেকে থাকেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তারও জবাবদিহি থাকা উচিত। কেন ১০ কোটি টাকার জায়গায় ৩ কোটি নেওয়া হলো, কেন যাদের নিষেধ করা হয়েছিল তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়া হলো—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তাকে দিতে হবে।’
তামিমের কথা স্পষ্ট যেভাবেই হোক সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাবদিহিতার মধ্যে আসতে হবে, ‘আমরা কোনো লিগ্যাল অ্যাকশনে যাব কি না—এটা নিয়ে যেহেতু ফাইন্ডিংসগুলো খুবই রিসেন্ট, তাই বিষয়টি এখনো বোর্ডে আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত আপনাদের জানাবো। তাই এসব বিষয়ে জবাবদিহিতা অবশ্যই দরকার। যারা তখন দায়িত্বে ছিলেন, তাদেরও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। আমাদের অবস্থানও পরিষ্কার—সবাইকে তার দায়িত্ব নিতে হবে। ভবিষ্যতে আমরা কী সিদ্ধান্ত নেবো, সেটা সময়মতো আপনারা জানতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব