রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শিক্ষা খাতে সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় বাংলাদেশ সরকার। এমন মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীতে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক বিনিময়ই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী আস্থা ও বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যবস্থা নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের এই সময়ে বাংলাদেশ ও চীনের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করা জরুরি।
তিনি চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও শক্তিশালী হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও গভীর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়ন অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে চীনের শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর মডেল হতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং শিক্ষা বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তার মতে, দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।
শিক্ষামন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শিক্ষা, গবেষণা ও কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম