নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় বিলের মাঝে প্রায় ১১ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে একটি কালভার্ট। তবে দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় কৃষকরা। বরং সংযোগ সড়ক ছাড়া বিলের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা কালভার্টটি এখন তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৭৪ হাজার ১৫৬ টাকা ব্যয়ে শালনগর ইউনিয়নের মাকড়াইল পাকা রাস্তা থেকে বিল পর্যন্ত সড়কে জাকারিয়া মোল্যার বাড়ির কাছে ২৪ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়।
স্থানীয়রা জানান, কালভার্টটি ব্যবহার উপযোগী করতে হলে আগে দুই পাশে মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে।
মাকড়াইল গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, “খাল নেই, নদী নেই, রাস্তা নেই—অকারণে বিলের মাঝে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এটি আমাদের কোনো কাজে আসছে না।”
আরেক কৃষক মাফুজার খান বলেন, “এই বিলে হাজার হাজার মণ পাট ও ধান উৎপাদন হয়। কিন্তু কালভার্টের দুই পাশে রাস্তা না থাকায় আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ধান, পাটসহ সব ফসল মাথায় করে আনতে হয়। কালভার্টটি অনেক উঁচু হওয়ায় সেটি পার হতেও কষ্ট হয়।”
জাকারিয়া মোল্যা বলেন, “আগে এখানে কালভার্ট না থাকলেও সামান্য কাদা মাড়িয়ে ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনে ফসল আনা যেত। কিন্তু কালভার্ট নির্মাণের পর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না হওয়ায় এখন সব ফসল মাথায় করে আনতে হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।”
ওবায়দুর রহমান নামে আরেক কৃষক বলেন, “এখানে কালভার্ট হলেও রাস্তা না থাকায় পুরো গ্রামের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা একটি ভ্যান নিয়েও বিলে যেতে পারি না। দুই পাশে মাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হলে আমরা এর সুফল ভোগ করতে পারব।”
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ বি এম মনোয়ারুল আলম বলেন, “২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। সে সময় রাস্তার জন্য জমি দিতে স্থানীয়রা সম্মত হলেও পরে বিভিন্ন কারণে কাজটি বাস্তবায়ন হয়নি। এবার কাবিখা প্রকল্পের আওতায় দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে সংযোগ সড়ক চলাচলের উপযোগী হবে।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন