ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় মিত্র সৌদি আরব ও কুয়েত এই অভিযানে মার্কিন যুদ্ধবিমানকে নিজেদের ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোর ফলেই এমন সিদ্ধান্ত আসে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার (৬ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে ফোনালাপের মাধ্যমে এ জটিলতার সমাধান হয়েছে। এর ফলে মার্কিনিদের জন্য নিজেদের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ফের খুলে দিয়েছে সৌদি আরব। তবু ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পুনরায় আলোর মুখ দেখবে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বনাম ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চায় সৌদি আরব। তেহরান যেন ভবিষ্যতে আর উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী না হয়, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা চায়ু দেশটি। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে এ বিষয়ে অবহিত একটি সূত্র জানায়, ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-কে ‘অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী এবং যথেষ্ট পরিকল্পনাহীন’ বলে মনে করে সৌদি আরব।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিচালনায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘অসংগতিপূর্ণ আচরণে’ অসন্তুষ্ট দেশটি। আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষরকারী সৌদি আরব শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনে কিছু সুবিধা দেখেছিল। তবে এখন ট্রাম্পের অনিশ্চিত অবস্থান ও সুস্পষ্ট লক্ষ্যহীন অভিযান নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা এবং দেশটির সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের যে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প, তাতেও উদ্বিগ্ন রিয়াদ। সৌদি আরবের আশঙ্কা, এতে ইরানের ইসলামিক শাসনব্যবস্থা আরও ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
তাই সৌদি আরব এখন অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে এবং ওয়াশিংটনকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে বলছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ভূমিকাকেও সমর্থন দিয়েছে রিয়াদ। সূত্র: রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব