আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাবিত চার দফা শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে ইরান। চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্দোলরেজা রাহমানি ফাজলি সোমবার (১১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
ফাজলি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও যৌথ উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই বেইজিংয়ের প্রস্তাবকে সমর্থন করছে তেহরান। তিনি জানান, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে বেইজিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান–এর সঙ্গে বৈঠকে শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে চার দফা পরিকল্পনা উত্থাপন করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, চীনের প্রস্তাবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাবের জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেহরানের অবস্থানকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রস্তাব আদান-প্রদান হয়। ইরান তাদের জবাবে জানিয়েছে, আলোচনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত যুদ্ধ বন্ধ করা। পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি পরবর্তী ধাপে আলোচনা করা যেতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধের ওপর জোর দিয়েছে। এর মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ইরান।
উল্লেখ্য, জেনেভায় আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। ইরানের দাবি, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।
একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার দাবি করেছে তেহরান। ঘটনাটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে ইরান সরকার জানায়, এর জবাবে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে শতাধিক হামলা চালানো হয়।
পরে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছালে ১৩ এপ্রিল হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে ইরান। পরে আরও এক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো হয়।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৮০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ ও ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া দেশটির জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত এবং ২৬ জন নিহত হয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি