রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশে ভয়াবহ ঝড়ে অন্তত ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বাতাস, গাছ উপড়ে পড়া, ঘরবাড়ি ধসে যাওয়া এবং বজ্রপাতের কারণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি মানুষ।
রাজ্যের অন্তত ১২টি জেলায় ঝড়টি মারাত্মক রূপ নেয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রবল তাণ্ডবে শত শত গাছ ও বিলবোর্ড উপড়ে পড়ে। পাশাপাশি ভেঙে যায় অসংখ্য কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তরপ্রদেশের হিন্দু তীর্থনগরী হিসেবে পরিচিত প্রয়াগরাজ (এলাহাবাদ) জেলা।
টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, ঝড়ের তীব্রতায় বড় বড় গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে রাস্তায় পড়ে আছে। অনেক জায়গায় রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
প্রয়াগরাজের বাসিন্দা রাম কিশোর সংবাদ সংস্থা এপি-কে বলেন, হঠাৎ করেই ঝড় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। বাতাসের তোড়ে টিনের চাল উড়ে যাচ্ছিল, মানুষ দিগ্বিদিক ছুটছিল। সারা সন্ধ্যা শুধু গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ শোনা গেছে।
দুর্যোগের খবর পাওয়ার পরই পুলিশ এবং দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) উদ্ধারকাজে নামে। রাস্তা ও রেললাইন থেকে গাছ এবং ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে চেইনসো ও ক্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বহু জেলা অন্ধকারে ডুবে আছে। প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হলে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব পাওয়া গেলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।