রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং তাদের চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করবে বলে জানান তিনি।
শনিবার (১৬ মে) চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, যারা হতদরিদ্র, যাদের চিকিৎসা করাতে অসুবিধা হচ্ছে, তাদের চিকিৎসার জন্য আমরা প্রাইভেট হসপিটালের সঙ্গে অ্যারেঞ্জমেন্টে যাচ্ছি। যেহেতু সরকারি হাসপাতালগুলোতে সীমাবদ্ধতা আছে, সেজন্য আমরা প্রাইভেট হসপিটালগুলোর সঙ্গে কথা বলছি। আমরা তাদের কাছে পেশেন্ট পাঠাবো। তারা চিকিৎসা করবে। বিলটা সরকার দিয়ে দেবে। সুতরাং যারা হতদরিদ্র তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য খাতে এবারের বাজেটে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য স্বাস্থ্যসেবাকে নাগরিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
আমির খসরু বলেন, আমরা যে ইউনিভার্সেল, প্রিভেন্টিভ, প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের কথা বলছি, এটি বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নাগরিক অধিকার। যে অধিকার থেকে তারা এতদিন বঞ্চিত ছিল। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্য দেশে সাধারণ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকে। আমরা সেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব অর্থনীতিতে পড়েছে বলে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ বাজেট থেকে ইতোমধ্যে ব্যয় হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের বিশাল অঙ্কের টাকা চলে গেছে। প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ইতোমধ্যে বাজেট থেকে চলে গেছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি “ঋণাত্মক অর্থনীতি” থেকে দেশকে বের করে আনার চেষ্টা করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিপুল বকেয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আমির খসরু বলেন, আমরা অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ ঋণাত্মক অবস্থায় আছি। প্রথমে এখান থেকে বের হতে হবে। তারপর অর্থনীতি সামনের দিকে এগোবে।
অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন, আমি বলেছি দুই বছর সময় লাগবে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম