মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ৫ লাখ টাকার রফাদফার অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, ডেঙ্গু আক্রান্ত এক নারীকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়াই অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশন করায় মৃত্যু হয়েছে তার। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে নগদ টাকা ও চেকের মাধ্যমে সমঝোতায় যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, অপচিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা মীমাংসায় ভুক্তভোগী পরিবারকে নগদ এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ৪ লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে পরিশোধের কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে ৫ লাখ টাকায় দফারফা করা হয় পুরো ঘটনাটি।
ঘটনাটি ঘটে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার ইউনাইটেড জেনারেল হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাতে হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে এই অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটে। প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে একপর্যায়ে সমঝোতার বিষয়টি স্বীকার করেন হাসপাতালের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম।
এর আগে শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় গার্মেন্টস কর্মী মনিকা বেগমের (৪০)। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর এলাকার বাসিন্দা ও দুই সন্তানের জননী।
স্বজনরা জানান, গত বুধবার অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশনের জন্য মনিকা বেগমকে ইউনাইটেড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন রাতেই তার অপারেশন করা হয়। পরদিন অবস্থার অবনতি হলে তাকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকা নেওয়ার পথে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে জরুরি ভিত্তিতে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের দাবি, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান মনিকা বেগম ডেঙ্গু পজিটিভ ছিলেন। তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ফিটনেস টেস্ট ছাড়াই অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশন করানোয় এই মৃত্যু ঘটেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা আটটার দিকে মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল এলাকায় জড়ো হন স্বজনরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে টাকা নেওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেন নিহতের স্বজনরা।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোফাখখারুল ইসলাম। তিনি বলেন, মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ধরনের আর্থিক মীমাংসার সুযোগ নেই।
এদিকে হাসপাতাল পরিচালকের বক্তব্য নিতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজা ও মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক আরশাদ উল্লাহ সাংবাদিকদের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ করেন। একপর্যায়ে গণমাধ্যম কর্মীদের মাইক্রোফোন ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
সাংবাদিকদের সাথে এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ, হুমকি এবং গণমাধ্যম কর্মীদের মাইক্রোফোন ছুড়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনা চরম ন্যক্কারজনক। এটি শুধু সাংবাদিকদের ওপর আঘাত নয়, স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপরও আঘাত। যারা এ ধরনের আচরণ করেছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু