স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচিতে পচা রুটি-কলা-ডিম দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষকদের যাচাই করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি এক নির্দেশনায় বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পচা বনরুটি, পচা ডিম, আকারে ছোট ও পচা কলা বিতরণসহ নানা প্রকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
ফলে মানসম্মত খাদ্য সরবরাহে ঘাটতির কারণে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়াসহ কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যের মান নিশ্চিত করা জরুরি।
খাদ্যের মান যাচাইয়ে বিষয়সমূহ :
ক. খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণের আগে সরবরাহকারী থেকে সরবরাহকৃত খাদ্যের মান ও পরিমাণ স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে।
খ. নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে (কল অফ কার্যাদেশ অনুযায়ী) খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।
গ. খাদ্যদ্রব্যের ধরণ অনুযায়ী বিদ্যালয় পর্যায়ে উপযুক্ত সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে খাদ্যের গুণগত মান বজায় থাকে।
ঘ. বিশেষ করে বনরুটি তাজা, নরম ও সঠিকভাবে মোড়কজাত কিনা পরীক্ষা করতে হবে; প্যাকেজিং অক্ষত, ছিঁড়ে যাওয়া বা আর্দ্রতা মুক্ত এবং পচন, ফাংগাস বা দুর্গন্ধমুক্ত হতে হবে। প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন (১২০ গ্রাম) উল্লেখ আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে।
ঙ. ডিম ফাটা, দুর্গন্ধযুক্ত ও পিচ্ছিলতা বা দৃশ্যমান দূষণ আছে কিনা দেখতে হবে।
চ. কলা দাগ বা পোকামুক্ত হতে হবে, বেশি পাকা বা পচা কলা গ্রহণ বা বিতরণ করা যাবে না।
ছ. ইউএইচটি মিল্ক ও ফটিফাইড বিস্কুটের ক্ষেত্রে প্যাকেজিং অক্ষত, প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন উল্লেখ আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়, সরবরাহকৃত খাদ্য সামগ্রী যাচাই করে গ্রহণ করতে হবে এবং কোনোক্রমেই নিম্নমানের ও ত্রুটিপূর্ণ খাবার সরবরাহকারীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা যাবে না। এ বিষয়ে কোনো প্রকার গাফিলতি, শৈথিল্য ও অনিয়ম পাওয়া গেলে বিভাগীয় মামলা ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিম্নমানের ত্রুটিপূর্ণ খাবার সরবরাহ করলে তা গ্রহণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব