স্পোর্টস ডেস্ক: সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের ইনিংসটা অনেকটাই লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠল। ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন লিটন দাস। টেলএন্ডারদের নিয়ে গড়া তার দায়িত্বশীল, সাহসী ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান তুলতে সক্ষম হয়।
লিটন খেলেন ১২৬ রানের অসাধারণ ইনিংস, যা কেবল সেঞ্চুরি নয়, পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে গড়া এক বিশেষ ইনিংস হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একপ্রান্তে উইকেট পড়তে থাকলেও তিনি ধৈর্য ধরে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন। তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলামও কিছু সময় উইকেটে টিকে থেকে লিটনকে সহায়তা করেন। তবে পুরো দিনজুড়ে আলোচনায় ছিলেন লিটনই।
ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি সুইপ করে, কভার-লং অন অঞ্চলে শট খেলে এবং শর্ট বলের জবাবে ছক্কা মেরে পাকিস্তানি বোলারদের চাপে রাখেন। সাজিদ খান ও খুররম শেহজাদের বলে তার কয়েকটি শট প্রতিপক্ষের মানসিক অবস্থাতেও প্রভাব ফেলে। এক পর্যায়ে নার্ভাস নাইন্টিজে পৌঁছে তিনি আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। যদিও গ্লাভসে বল লাগা ও ক্যাচের সম্ভাবনা তৈরি হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান রিভিউ না নেওয়ায় রক্ষা পান লিটন। শেষ পর্যন্ত শর্ট বল খেলতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
আউট হওয়ার পরও ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে দর্শকদের করতালিতে ভাসেন লিটন। সতীর্থ মুশফিকুর রহিম সিঁড়িতে নেমে তাকে অভিবাদন জানান। পরে সংবাদ সম্মেলনে লিটন জানান, নিজের ভূমিকা ভিন্ন বলেই এই ইনিংসটি তার কাছে বিশেষ। তিনি বলেন, দলের টপ অর্ডার যদি রান করে, তখন তিনি অনেক সময় ৬০-৭০ ওভার পর ব্যাট হাতে নামেন। এবার শুরু থেকেই টেলএন্ডারদের নিয়ে খেলতে হয়েছে, যা ইনিংসটিকে আলাদা করে তুলেছে।
লিটন আরও জানান, শুরুতে তার লক্ষ্য সেঞ্চুরি ছিল না; বরং দলকে সম্ভব হলে ২০০ রানের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। ড্রেসিংরুম থেকে তাকে আক্রমণাত্মক খেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, আর তিনি সেটিই অনুসরণ করেন। নব্বইয়ের ঘরে এসে কিছুটা চাপ অনুভব করলেও শরীফুলের সঙ্গে জুটি গড়ে ইনিংসকে এগিয়ে নেন তিনি।
বাংলাদেশের এই সংগ্রামী ইনিংসে লিটনের সেঞ্চুরি সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলেও, দিন শেষে দলের লক্ষ্য এখন পাকিস্তানকে বড় লিড নিতে না দেওয়া। লিটনের বিশ্বাস, সিলেটের উইকেটে সকালে মেঘলা আবহাওয়ায় প্রথম ১০ ওভার খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। ওই সময় একটি-দুটি উইকেট নিতে পারলে পাকিস্তান আবারও চাপে পড়বে।
এই ইনিংস প্রমাণ করল, চাপের মুখে লিটন দাস এখনও বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার। পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, তিনি একাই দলের লড়াইয়ের গল্প লিখে যেতে পারেন।
আউট হওয়ার বলটা ছিল শর্ট, ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন তিনি। পাকিস্তান আগের দুই ইনিংসের মতো এবারও তাকে শর্ট বল দিয়ে টার্গেট করেছে বলে মনে করেন লিটন, গত দুই ইনিংসে বাউন্সারে আউট হয়েছি, আজকেও তাই। আমার মনে হয় ওরা এটা মাথায় রেখেছিল। কিন্তু আমি আসলে বাউন্সার উপভোগ করেছি।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি