বেনাপোল প্রতিনিধি: জ্যৈষ্ঠ্যের শুরুতেই তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে যশোরসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা। টানা খরতাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে, ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবারও তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলেও এদিন যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে খুলনায়, ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ দেশের মোট ১৪টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে যশোর, মাদারীপুর, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী ও পাবনা। আগামী দু-এক দিন এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে কোথাও কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই জেলার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রির ওপরে অবস্থান করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালেই সেখানে তাপপ্রবাহ চলছে বলে ধরা হয়।
প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। দুপুরের দিকে শহরের রাস্তা, বাজার ও ফসলের মাঠে তীব্র উত্তাপে মানুষের চলাচল কমে গেছে। বাইরে বের হলেই গায়ে আগুনের হল্কা লাগছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শ্রমজীবী মানুষ ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউ মুখে পানি দিচ্ছেন, আবার কেউ শরবত, আখের রস ও স্যালাইন পান করে স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
যশোর শহরের লালদীঘিপাড় এলাকার আখের রস বিক্রেতা করিম শেখ বলেন, গরমে মানুষ বেশি আখের রস খেতে আসছে। কিন্তু রাস্তায় দাঁড়িয়ে ব্যবসা করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
রিকশাচালক ফারুক মিয়া বলেন, একটু রিকশা চালালেই শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে। মনে হয় গায়ে আগুন লাগছে। দড়াটানা এলাকার আরেক রিকশাচালক হোসেন মিয়া বলেন, গরমে যাত্রী কমে গেছে। ভাড়া নিয়ে গেলেও খালি ফিরে আসতে হচ্ছে।
তীব্র গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া এবং বেশি বেশি পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি