টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে প্রায় ৩০টি বিড়ি ফ্যাক্টরীর অস্তিত্ব থাকলেও এসব কারখানায় উৎপাদিত বিড়ি সরকার নির্ধারিত মূল্য ও রাজস্ব কাঠামোকে উপেক্ষা করে বাজারজাত করছে সংশ্লিষ্ট বিড়ি মালিকরা। প্রতি প্যাকেটে বিড়ির বাজার মূল্য ১৮ থেকে ২০ টাকা হলেও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন হাট বাজার ও দোকানপাটগুলোতে সেই বিড়ি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়।
যেখানে প্রতি প্যাকেট বিড়ির জন্য সরকার নির্ধারিত ব্যান্ডরোল এর দাম প্রায় ৯ টাকা সেখানে বিড়ির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১০টাকায়। যা রাজস্ব ফাকির সুষ্পষ্ট প্রমান বহন করে। সত্যিকার অর্থে অধিকাংশ বিড়ির প্যাকেটে জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছ কিছু ক্ষেত্রে একই ব্যান্ডরোল বারবার ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে।
জানা যায়, নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মিলিয়ে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০টি বিড়ি ফ্যাক্টরী রয়েছে। এর মধ্যে মটর বিড়ি, মুকুট বিড়ি, লাকী বিড়ি, মন্টুর বিড়ি, হক বিড়ি,নিউ লাকী বিড়ি, নিউ মুকুট বিড়ি, মোহিনী বিড়ি, পাখা বিড়ি, মিষ্টি বিড়ি, রেখা বিড়ি, সাইফ বিড়ি, সিয়াম বিড়ি, মধু বিড়ি, মিরাজ বিড়ি, দেওয়ান বিড়ি, হালিম বিড়ি, যমুনা বিড়ি, ৫নং বিড়ি, নিশান বিড়ি, ফুল বিড়ি, সাইকেল বিড়ি, মিঠু বিড়ি, সোহাগ বিড়ি ও জীবন বিড়ি উল্লেখযোগ্য।
এসব বিড়ি ফ্যাক্টরীর মধ্যে অনেকের বৈধ কারখানা নাই। কারখানা থাকলেও তাদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। অনেকেই স্থানীয় কাস্টমস অফিসের সহযোগীতায় চুক্তিবদ্ধ ব্যান্ডরোল উত্তোলন করলেও জাল ও একাধিকরার ব্যবহৃত ব্যান্ডরোলের উপর বেশি নির্ভরশীল। ফলে সরকার প্রতিবছর এ শিল্প থেকে বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে।
সংশিষ্ট নিরপেক্ষ তদারকি কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত কার্যক্র না থাকায় এসব বিড়ি মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং ব্যাঙের ছাতার মত নতুন নামে বিড়ি ফ্যাক্টরীর জন্ম হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এতে সরকারী কোষাগারে জমা পড়বে কোটি টাকার রাজস্ব। এছাড়া এসব মালিকের অনেকের নির্ধারিত কারখানা না থাকলেও তারা গোপনে বিভিন্ন বাড়িতে তাদের বিড়ি তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের এমন সেচ্ছাচারিতা ও দায়হীনতার কারণে সরকার প্রতিবছর রাজস্ব হারাচ্ছে কয়েক কোটি টাকা। সচেতন মহলের দাবি কাস্টমস কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশে বিড়ি মালিকরা সরকারি রাজস্ব ফাকি দিয়ে তাদের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে। এ বিষয়ে বারবার মৌখিক অভিযোগ করলেও কতৃপক্ষ রহস্যজনক কারনে নীরব ভ’মিকা পালন করছে।
টাঙ্গাইলের কাস্টমস এক্সাইজ ভ্যাট এর বিভাগীয় কর্মকর্তা এস সি বোস অনিয়মের দায় অস্বীকার জানান,মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করেন। তারা বিভিন্ন সময় ভেজাল তামাকজাত পন্য জব্দ করে তা ধ্বংস করে থাকেন।জাল ব্যান্ডরোলের বিষয়ে কোন তথ্য থাকলে তারা আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু