ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী থানাধীন দেবীপুর এলাকায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঠাকুরগাঁও বিচারক আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর নানা বাদী হয়ে ভূল্লী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা-মা দুজনেই ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত থাকায় সে দেবীপুর এলাকায় নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে প্রতিবেশী ওই কিশোর প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করত এবং কুপ্রস্তাব দিত।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল ওই ছাত্রী। বিকেল পাঁচটার দিকে ওই কিশোর তাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। সে সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ওই ছাত্রীর অমতে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শিশুটি ঘটনার পর বাড়িতে ফিরে তার নানা ও এক আত্মীয়কে বিষয়টি জানায়। পরে মুঠোফোনে ঢাকায় থাকা মা-বাবাকে ঘটনাটি অবহিত করা হয়। তারা ঢাকা থেকে আসার পর আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে বাদী পক্ষ জানিয়েছে।
ভূল্লী থানার পুলিশ জানায়, এজাহার প্রাপ্তির পরপরই সোমবার রাতে মামলাটি (মামলা নং-১৪) নথিভুক্ত করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০২৩ ও ২০২৫) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করে।
ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাময়িক দায়িত্বে থাকা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) দীন মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা এজাহার পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি। ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।"
রিপোর্টার্স২৪/মিতু