মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া স্বামী-স্ত্রী ও তাদের শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ দুই দিন পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল ৩টার দিকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
নিহতরা হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা চিন্ময় শিকদার (২৭), তার স্ত্রী ইশরাত জাহান সাইদা ওরফে ইশা শিকদার (১৯) এবং তাদের ৯ মাস বয়সী কন্যা সন্তান।
পুলিশ জানায়, ঢাকায় পড়াশোনার সময় নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা গ্রামের বাসিন্দা এরশাদ মিয়ার মেয়ে ইশরাত জাহান সাইদার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে চিন্ময়ের। পরে তারা হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ৯ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ ও ঋণগ্রস্ততার কারণে চিন্ময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
গত রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় স্ত্রীকে ঢাকায় চিকিৎসা করিয়ে চিন্ময় শিকদার মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকায় তার সৎ মা মিষ্টি আক্তার ওরফে মিষ্টি শিকদারের ভাড়া বাসায় ওঠেন।
পুলিশের দাবি, ওই রাত আনুমানিক ১টার দিকে বাসার একটি কক্ষে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে চিন্ময় প্রথমে স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে হত্যা করেন। পরে তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাতেই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মঙ্গলবার বিকেলে চিন্ময় শিকদার ও তার শিশুসন্তানের মরদেহ তার পরিবারের কাছে এবং ইশরাত জাহান সাইদার মরদেহ তার বাবা এরশাদ মিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় নিরাপত্তাজনিত কারণে চিন্ময়ের সৎ মা মিষ্টি আক্তারকে আদালতের মাধ্যমে সেফ কাস্টডিতে রাখা হয়েছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, পারিবারিক ও আর্থিক চাপ এবং মানসিক অবসাদের কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু