কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ সাংবাদিককে সাংঘাতিক বলা অধ্যক্ষ মোল্লা মোহা. রুহুল আমিনকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। তাঁকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
আজ (১৯ এপ্রিল) মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফকে নতুন অধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ২০ মে তারিখের মধ্যে মোল্লা মোহা. রুহুল আমিনকে বর্তমান কর্মস্থল ছাড়ার আদেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় নির্ধারিত তারিখের পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।
দীর্ঘদিন ধরেই অধ্যক্ষ রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে কলেজের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে আসছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গত ৭ মে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে গিয়ে তুমুল হট্টগোলের মুখে পড়েন সংসদ সদস্য আমির হামজা। মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী মঞ্চের সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের জন্য মাঠে প্রবেশ করলে ওই শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েও আমির হামজাকে ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তারা মাঠের মধ্যে বসে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে কলেজের অধ্যক্ষ আমির হামজাকে নিয়ে তাঁর কার্যালয়ে চলে যান। শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গিয়েও একইভাবে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান।
এ ঘটনার পর আমির হামজা ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে লেখে দাবি করেন, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ পরিদর্শনকালীন সময়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা।
এদিকে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আমির হামজার প্রসঙ্গ টেনে রুহুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘গত কয়েক দিন ধরে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের নিউজ নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় হয়ে গেল। অসংখ্য সাংবাদিকের সামনে আমাকে কথা বলতে হয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে সদর আসনের সংসদ সদস্য আমাদের এখানে এসেছেন। আমি তাঁকে গার্ড অব অনার দিয়েছি। মঞ্চে নিয়ে গেছি। সেখানে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। আমিও বক্তব্য দিয়েছি। আমরা খেলা উদ্বোধন করেছি। এত কিছু করলাম নিউজে আসল না। আপনাদের নিউজে আসল উনার সাথে কে, কি করেছে সেটা। এই যদি পত্রিকার অবস্থা হয়, এই যদি সাংবাদিকতার অবস্থা হয়, তাহলে এটা জাতির জনক অত্যন্ত দুঃখের কারণ।
এ সময় রুহুল আমিন বলেন, আমরা এক সময় সাঈদি সাহেবকে বলতে শুনেছি সাংবাদিকেরা সাংঘাতিক। পরে সাংবাদিকদের সাংঘাতিক বলে কটূক্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করা এ ঘটনা। মুহূর্তেই এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওএসডি হওয়া এ বিষয় সাবেক অধ্যক্ষ মোল্লা মোহা. রুহুল আমিন বলেন, ওএসডি (বদলি) করা মানে কোনো ডিপার্টমেন্টাল পানিশমেন্ট (শাস্তি) নয়। যেহেতু পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে কোনো অধ্যাপকের পদ আপাতত খালি নেই, তাই মাউশি থেকে আমার অর্থায়ন হবে।
এই বদলি কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মনে করেন কিনা—এমন প্রশ্নে রুহুল আমিন বলেন, সরকারি চেয়ারে বসে বা দায়িত্ব পালনকালে এই নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
রিপোর্টার্স২৪/ফয়সাল