বিনোদন ডেস্ক: ‘বাবা বলে আর কখনো ডাকবে না—এ কথা ভাবলেই বুকটা ভেঙে যায়’ মেয়ের শূন্যতার কথা বলতে গিয়ে কায়সার হামিদ বলেন। সন্তান হারানোর শোকে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা কায়সার হামিদ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে এখনো শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি।
মেয়েকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে কায়সার হামিদ বলেন, কারিনা আমার বড় মেয়ে। এত তাড়াতাড়ি এভাবে চলে যাবে, কখনো ভাবিনি। অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই কষ্টটা কাকে বোঝাব? প্রতিদিন যেন বুকের ওপর একটা পাথর নিয়ে বেঁচে আছি।
তিনি আরও বলেন, বারবার মনে হয়, এই বুঝি কারিনা ‘বাবা’ বলে ডাকবে। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে, সে আর নেই। অনন্তের পথে পাড়ি দিয়েছে।
কারিনার মৃত্যুর পর প্রথমবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় এই সাবেক ফুটবলারকে। তাঁর কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে সন্তানের অনুপস্থিতির অসহনীয় বেদনা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ নভেম্বর ৩৩ বছরে পা দেওয়ার কথা ছিল কারিনা কায়সারের। কিন্তু তার আগেই গত সোমবার লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় মারা যান তিনি। মুন্সিগঞ্জে নানাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
শোকাহত বাবা নিজের ফেসবুক পেজে মেয়ের শৈশবের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, কারিনা, দিন যাবে, বছর যাবে। একসময় সবাই তোমাকে ভুলে যেতে পারে। কিন্তু তোমার বাবার বুকে তুমি চিরদিন থাকবে। আল্লাহ তোমাকে বেহেশত নসিব করুক। আমিন।
মেয়ের মা লোপা কায়সারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, জীবনের নানা কঠিন সময় পার করলেও সন্তানের মৃত্যু তার জীবনের সবচেয়ে বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত কারিনা সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজও করছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি