চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের হালদা নদীতে মাছ না মিললে অনেক জেলে পরিবারের ঘরে নেমে আসে অভাব-অনটন। অনেক সময় চাল কেনার টাকাও জোটে না। এমন বাস্তবতায় বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করতে হালদা পাড়ের জেলেদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) চট্টগ্রামের রাউজানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৭৫ জন জেলের হাতে সেলাই মেশিন, স্ট্যান্ড, চেয়ার ও ড্রাই আয়রন তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ এবং অসচ্ছল মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তাও বিতরণ করা হয়।
রাউজান উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই পেশায় নির্ভরশীল থাকলে হবে না। পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থান ও শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষের জীবনমান বদলাবে। জেলে পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
সেলাই মেশিন পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন হালদা পাড়ের জেলে মৃদুল বড়ুয়া। তিনি বলেন, ডিসি স্যার আমাদের নতুন একটি সেলাই মেশিন দিয়েছেন। আমি আমার মেয়ে ও ছেলের বউকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেব। তারা ঘরে বসে কাজ করলে সংসারে বাড়তি আয় হবে।
মৃদুল বড়ুয়ার পুত্রবধূ শর্মিলা বড়ুয়া বলেন, শুধু মাছ ধরে পরিবার চালানো খুব কষ্টকর। সেলাই কাজ শিখে নিজেরা কাজ করতে পারলে সংসারের অভাব কিছুটা হলেও কমবে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান আরেক জেলে প্রদীপ জলদাশ। তিনি বলেন, যখন মাছ ধরতে পারি না, তখন চাল কেনার টাকাও থাকে না।
তবে নতুন সেলাই মেশিন পেয়ে তার পরিবারে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রদীপ জলদাশ বলেন, আমার মেয়ে তিন্নি সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এখন বাসায় বসে কাজ করতে পারবে। মাছ ধরার আয়ের পাশাপাশি সেলাইয়ের আয় হলে সংসারের কষ্ট কিছুটা কমবে।
তিন্নির ভাই লিংকন বড়ুয়া বলেন, বাবার একার আয়ে সংসার চালানো খুব কঠিন। বোন সেলাই প্রশিক্ষণ নিলেও মেশিন কেনার সামর্থ্য ছিল না। এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় উপকার।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২১ জন উপকারভোগীর মাঝে ৫০ হাজার টাকার এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. রাহাতুল ইসলাম। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনির হোছাইন উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি