নারী
উৎসর্গ: রামিসাকে
শান্ত চিন্তার কুয়াশার ভেতর দিয়ে
তুমি গোপন শব্দগুলো কবর দাও।
সহিষ্ণুতার কঠিন ডালের ওপর,
নগ্ন কাঁধে তুমি রংধনু বহন করো,
অনুভূতির জীবন্ত ঘাসে,
যখন কোনো ভ্রান্তি তোমাকে ছোঁ মারে,
তুমি ধুয়ে দাও বিভ্রান্তির পোড়া ধুলো।
তুমি, নারী, আজ শব্দটাকেও
সবুজ কাঁচা আবরণে ঢেকে রাখো,
নীরবতার বস্ত্র তুমি বুনো
নগ্ন ফিসফিসে বেগুনি রঙে।।
নারী ২
নারী, তুমি এখনো শব্দের আগেই দাঁড়িয়ে থাকা এক নীরব রাষ্ট্র
যেখানে মানচিত্র বদলে যায় ঘুমের ভেতর
আর স্বপ্নের নামে জারি হয় অদৃশ্য কারফিউ।
তুমি হাঁটো কুয়াশার আদালতে,
যেখানে সত্য আর মিথ্যা একই পোশাকে দাঁড়ায়
এবং বিচারকের চেয়ারে বসে থাকে
ভুলে যাওয়া সময়।
তোমার কাঁধে রংধনু নয়,
বরং ভাঙা প্রতিশ্রুতির ফাইল
যেখানে প্রতিটি রং আলাদা অভিযোগ।
তুমি জানো—
এই শহরে ভালোবাসাও এখন অনুমোদিত বক্তব্য,
তাই তুমি ভালোবাসাকে লুকাও
নিঃশ্বাসের নিচে,
যেন নিষিদ্ধ কোনো কবিতা।
আর তুমি,
প্রতিদিন সেই অস্বীকার করা ভোরের দিকে হাঁটো—
নামহীন, তবু সবচেয়ে স্পষ্ট সাক্ষ্য হয়ে।।
নারী ৩
তুমি এখনো সেই প্রার্থনা
যা কোনো ঈশ্বর পর্যন্ত পৌঁছায় না
কারণ পথের মাঝখানে
ভাষাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তোমার হাতে যে ফুল ছিল,
তা এখন নিষিদ্ধ স্মৃতির তালিকায়
শুকিয়ে রাখা একটি সাক্ষ্য—
যেখানে ঘ্রাণ মানে অপরাধ।
শহরের নিচে এখন আর মাটি নেই,
শুধু স্তর-স্তর ভাঙা প্রতিশ্রুতি,
আর তার ভেতর দিয়ে তুমি হাঁটো
নীরব বিদ্রোহের মতো।
তোমার চোখে যে রংধনু ছিল,
তা ভেঙে গেছে আলোচনার টেবিলে—
প্রতিটি রঙ আলাদা জিজ্ঞাসাবাদে ব্যস্ত
তুমি তবু শ্বাস নাও—
যেন শ্বাসই শেষ অবৈধ শব্দ,
যা এখনো ধরা পড়েনি ভাষার রাডারে।।