স্টাফ রিপোর্টার: ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ধীরে ধীরে জমতে শুরু করেছে বেচাকেনা। তবে হাটে গরুর সরবরাহ বাড়লেও দাম নিয়ে ইতোমধ্যে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ক্রেতারা। রাজধানীর আফতাবনগর সংলগ্ন স্বদেশ সানভ্যালি গরুর হাটে ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে লাখ টাকার নিচে কোনো গরুই নেই।
শনিবার (২৩ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে এখনও পুরোপুরি জমজমাট পরিবেশ তৈরি না হলেও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরা গরু নিয়ে আসতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ জায়গা দখল করে রেখেছেন, আবার অনেকের গরু এখনও পৌঁছেনি।
তবে এরই মধ্যে যেসব গরু হাটে উঠেছে, সেগুলোর দাম তুলনামূলক অনেক বেশি। ছোট আকারের গরুর দামও শুরু হচ্ছে লাখ টাকার ওপরে।
হাট ঘুরে দেখা যায়, দুই থেকে আড়াই মণ ওজনের গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আড়াই থেকে চার মণ ওজনের গরু বিক্রি হচ্ছে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকায়। চার থেকে ছয় মণ ওজনের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর ছয় মণের বেশি ওজনের বড় গরুগুলোর দাম তিন লাখ টাকার ওপরে।
ব্যাপারীরা বলছেন, এবার গরু কিনতেই আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি খরচ হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দাম হাঁকতে হচ্ছে।
মেহেরপুর থেকে চারটি গরু নিয়ে আসা ৭৫ বছর বয়সী আব্দুর রহমান বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার গরু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। খাবারের দাম বেড়েছে, ওষুধের খরচও বেশি। তাই কম দামে বিক্রি করলে লাভ তো দূরের কথা, লোকসান হবে।
তিনি জানান, তার আনা দুটি গরুর জোড়ার দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় চার লাখ টাকা।
চাঁদপুর থেকে ৩৯টি গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আখতার হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় প্রতিটি গরু ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। শুধু গরুর দাম নয়, পরিবহন খরচও বেড়েছে। গত বছর ট্রলার ভাড়া ছিল ২৬ হাজার টাকা, এবার দিতে হয়েছে ৪২ হাজার।
তিনি আরও বলেন, এখনও ক্রেতা কম। তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বাজার জমে উঠবে বলে আশা করছি। কুষ্টিয়া থেকে গরু নিয়ে আসা আরেক ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, “এবার হাটে গরুর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে ঈদের যত কাছে আসবে, বেচাকেনাও বাড়বে।
হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতীয় গরু না আসা, খামারিদের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে এবার বাজারে গরুর দাম বেড়েছে। স্বদেশ সানভ্যালি হাটের ইজারাদার তহিরুল ইসলাম তুহিন জানান, হাটে প্রায় ১০ হাজার গরু কেনাবেচার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক গরু এসে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, আমাদের আশপাশে বড় কোনো হাট না থাকায় ভালো বেচাকেনার আশা করছি। রাতের মধ্যে আরও গরু আসবে।
এদিকে হাটে আগত অনেক ক্রেতাই বলছেন, বাজারে গরুর দাম তাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন অনেকে।
রিপোর্টার্স২৪/ ঝুম