স্টাফ রিপোর্টার: জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আসন্ন জাতীয় বাজেট যেন দুর্নীতি ও লুটপাটের হাতিয়ার হয়ে না ওঠে, সে জন্য সরকারকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরতে হবে।’
রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রাজধানীর পল্টনে ইকোনোমিকস রিপোর্টার্স ফোরাম অডিটরিয়ামে ‘জাতীয় বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব শুধু সংসদে বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের উন্নয়নে সরকার ও বিরোধী দলকে সমানভাবে ভূমিকা রাখতে হয়।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। সময়ের ব্যবধানে সেই বাজেটের আকার বেড়ে আসন্ন অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কিন্তু বাজেটের আয়তন বাড়লেও জনগণের জীবনমান ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। বরং অনেক সময় বাজেট লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়’র স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। সভা পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নি, সাবেক সিনিয়র সচিব খ. ম খবিরুল ইসলাম, ইআরএফের সাবেক সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মৃধা, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর পরিচালক (অতিরিক্ত গবেষণা) তৌহিদুল ইসলাম খান, সাংবাদিক লুৎফর কবির সাদী এবং এসএ টিভি-র নিউজ এডিটর সালাহউদ্দিন বাবলুসহ অনেকে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দুর্নীতি ও অর্থপাচার বন্ধে সরকারকে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘তেলা মাথায় তেল দেওয়া’ ধরনের বাজেট থেকে বেরিয়ে এসে জনগণমুখী ও সর্বজনীন বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ বাজেটই ঋণনির্ভর ছিল। ফলে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব হয়নি। জনগণের করের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ট্রেডিশনাল বাজেট প্রণয়ন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবমুখী ও অংশগ্রহণমূলক বাজেট ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন।
তিনি আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়া উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধান ও খনিজ সম্পদ উত্তোলনে বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব