ফয়সাল করিম: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই এখন একটি সংলাপ বারবার ভেসে আসছে— “রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক?”। ফেসবুক, টিকটক কিংবা ইউটিউব— সর্বত্রই ভাইরাল এই ডায়ালগ। আবার কেউ কেউ একে অপরকে কৈতুক করেও এ সকল ডায়ালগ বলতে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ কয়েকটি ভিডিও সংলাপ কীভাবে কোটি মানুষের মুখে মুখে ঘুরতে পারে, তার সাম্প্রতিক উদাহরণ হয়ে উঠেছেন এই মানুষটি। আর তার এই সংলাপের মাধ্যমে রাতারাতি আলোচনায় উঠে আসেন তিনি । নেটিজেন মনে প্রশ্ন জাগছে কে এই ব্যক্তি কি তার পরিচয় ? তিনি একজন অতিসাধারণ সহজ সরল মানুষ নাম তার ঈমান আলী। কয়েকদিন আগেও যিনি ছিলেন সাধারণ একজন অভিনয়শিল্পী।
ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই তাকে প্রকৃত কবিরাজ মনে করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয় তাকে ঘিরে। কেউ বলছিলেন তিনি অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী, আবার কেউ মনে করছিলেন এটি কোনো প্রতারণামূলক প্রচারণা। তবে পরে জানা যায়, বাস্তবে ঈমান আলী কোনো কবিরাজ নন। তিনি মূলত একজন অভিনেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নাটক, শর্ট ভিডিও এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কনটেন্টে অভিনয় করে আসছেন। ঈমান আলী নামে তার একটি ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিও রয়েছে। সেখানে তিনি তার নিজস্ব ভাষায় নানা রকম কৈতুক, জন সচেতনতা ও সহ কর্মীদের নিয়ে আড্ডার ভিডিও প্রচার করতে দেখা যায়।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যমতে, ঈমান আলীর গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট জেলায়। তবে জীবিকার প্রয়োজনে বহু বছর আগে তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন পরিচিত মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ছোটোখাটো পেশায়ও যুক্ত ছিলেন তিনি। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে তিনি অভিনয়ের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন।
জানা গেছে, প্রায় ১৬ থেকে ১৮ বছর ধরে তিনি বিভিন্নভাবে অভিনয় ও কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত। শুরুতে স্থানীয় নাট্যদল এবং ইউটিউবভিত্তিক ছোট কনটেন্টে অভিনয় করলেও খুব বেশি পরিচিতি পাননি। তবে সম্প্রতি কবিরাজের চরিত্রে অভিনয় করা একটি ভিডিও তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। ভিডিওটিতে তার কথার ধরন, চোখের অভিব্যক্তি, বিরতির ব্যবহার এবং রহস্যময় উপস্থাপন দর্শকদের আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে “রাগ করলা?” এবং “কথা ঠিক না বেঠিক?” সংলাপ দুটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এই ভাইরাল ট্রেন্ডের পেছনে কাজ করেছে মানুষের বিনোদনপ্রিয়তা এবং মিম সংস্কৃতি। ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ, টিকটক ভিডিও এবং ইউটিউব শর্টসে ঈমান আলীর সংলাপ ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য কনটেন্ট। এমনকি বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও নিজেদের প্রচারণায় তার সংলাপ ব্যবহার শুরু করেছে। অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার অভিনয় ভঙ্গিকে নকল করে নতুন নতুন ভিডিও তৈরি করছেন। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঈমান আলী একটি অনলাইন সাংস্কৃতিক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছেন।
ঈমান আলী নিজেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি ছিল নিছক অভিনয়। তিনি বলেছেন, তিনি কোনো বাস্তব কবিরাজ নন এবং দর্শকদের বিনোদনের জন্যই চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তার ভাষায়, “আমি অনেক আগে থেকেই অভিনয় করি। ভিডিওটি শুধু বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।” এই বক্তব্যের পর অনেকের ভুল ধারণা দূর হয়।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কোন এক অভিনয়ে পরিচালক তাকে এই কবিরাজের চরিত্রে অভিনয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন পরে তিনি এ চরিত্র বার বার বিভিন্ন ভগ্নীতে এ চরিত্র অনুশীলন করেন এক পর্যায় পরিচালকের কাল্পনিক চরিত্র থেকেও ভালো অভিনয় ফুটিয়ে তুলতে পারে। সেই থেকে মজার ছলে অনেকেই তাকে বলতে শুরু করলো হাত দেখে ভবিষ্যৎ করার জন্য। এবং সেই ভিডিও তিনি তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার করতেন।
বর্তমানে ভাইরাল হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত বাড়ছে তার অনুসারীর সংখ্যা। সাধারণ একজন অভিনয়শিল্পী থেকে রাতারাতি জাতীয় আলোচনায় উঠে আসা ঈমান আলীর গল্প এখন অনেক তরুণ কনটেন্ট নির্মাতার কাছেও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ফয়সাল