স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নোয়াখালীর চাটখিলে উৎসুক মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিশাল আকৃতির এক গরু, যার নাম রাখা হয়েছে ‘নোয়াখালীর বস’। হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের সাদা রঙের এই গরুটির ওজন প্রায় ৩০ মণ। বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।
জানা গেছে, রাজধানীর সরকারি বাংলা কলেজ থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় আমেরিকায় পাড়ি জমান ফয়সাল। প্রবাসে থাকলেও দেশের স্বপ্নের খামারটিকে তিনি ভুলে যাননি। আরেক প্রবাসী আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহের অর্থায়নে এবং ফয়সালের দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় গত চার বছর ধরে চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নে গরুটিকে লালন-পালন করা হচ্ছে। আসন্ন কোরবানির ঈদে এই ‘নোয়াখালীর বস’-এর দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিশাল আকৃতির এই গরুটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন। বিশেষ করে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি অনেক বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, এত বড় গরু জীবনে খুব কম দেখেছি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় ছোট একটা পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভিডিও দেখে খামারে আসা দর্শনার্থী মো. আবু হানিফ বলেন, কাছে এসে দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। খামারি যদি ন্যায্যমূল্য পান, তবে তার পরিশ্রম সার্থক হবে।
খামারটির পরিচালনাকারী মো. শাহরিয়ার জানান, ক্ষতিকর ওষুধ বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। নিয়মিত খড়, সবুজ ঘাস, ভুসি ও ভুট্টা খাইয়ে দীর্ঘ চার বছর যত্নের ফলে গরুটির ওজন এখন প্রায় ৩০ মণে পৌঁছেছে।
চাটখিল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, খামারিরা এখন বাণিজ্যিকভাবে বড় গরু লালন-পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। নোয়াখালীর বস’ গরুটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এমন বড় গরু স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব