রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ার তৈরি পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর থেকেই মহাসড়কজুড়ে দেখা দিয়েছে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি চাপের পাশাপাশি এবার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকেই শিল্পাঞ্চলের বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর, নবীনগর-চন্দ্রা এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। সড়কজুড়ে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোথাও স্থায়ী যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। তবে যানবাহনের ধীরগতি ও অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ভোগান্তি বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
এর আগে সোমবার ছুটির প্রথম দিন দুপুরের পর থেকেই মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিকেলের দিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রয়োজনীয় ব্যাগপত্র নিয়ে কাঙ্ক্ষিত যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন হাজারো কর্মজীবী মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে বাস কাউন্টারগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন বাসের জন্য। আবার কেউ কেউ টিকিট না পেয়ে বিকল্প পরিবহনের খোঁজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন।
এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে কিছু পরিবহন দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেশি ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তদারকি দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার গার্মেন্টসকর্মী হাসনা বেগম বলেন, “সকালে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়েছি। কিন্তু গাড়ি পাচ্ছি না। যেসব গাড়ি আছে, তারা অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছে। তাই এখনো যেতে পারিনি।”
রংপুরগামী যাত্রী আফজাল হোসেন সাভারের পাকিজা ইউটার্ন এলাকায় দাঁড়িয়ে বলেন, সকাল থেকে অন্তত একশ’ গাড়ির ভাড়া জিজ্ঞেস করেছি। কেউ ১৫০০ আবার কেউ ১৬০০ টাকা চাচ্ছে। অথচ সাধারণ সময়ে ৫০০ টাকায় যাওয়া যায়। এত বেশি ভাড়া দিয়ে যাওয়া সম্ভব না।
তিনি আরও বলেন, যে বেতন পেয়েছি, তা দিয়ে পরিবারের জন্য কিছু কেনাকাটা করেছি। হাতে অতিরিক্ত টাকা নেই। তাই রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি।
অন্যদিকে হাতে ব্যাগ আর মাথায় বস্তা নিয়ে অনেক যাত্রীকে বিকল্প উপায়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। সাভারের এক পয়েন্টে সোলেমান মিয়া নামের এক যাত্রীকে গরুবাহী ট্রাকের হেলপারের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি করতে দেখা যায়। তবে ভাড়া নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় হতাশ হয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহজাহান বলেন, “শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা হওয়ায় যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে যানবাহনের ধীরগতি থাকলেও কোথাও স্থায়ী যানজট নেই।”
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ মাঠে সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কমিউনিটি পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কাজ করছেন। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম