ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কেনাবেচা। উপজেলার বাবলাতলা, মুনসুরাবাদ, বালিয়াহাটী, লোচনগঞ্জ ও মালিগ্রামসহ বিভিন্ন স্থায়ী হাটের পাশাপাশি কয়েকটি অস্থায়ী হাটেও ব্যাপক বেচাকেনা চলছে।
কোরবানির পশুর বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে হাটগুলো। খামারি, ব্যবসায়ী ও হাট ইজারাদারদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। অন্যদিকে ক্রেতারাও পছন্দের গরু ও ছাগল কিনে সন্তোষ প্রকাশ করছেন।
হাটের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। র্যাবের ভিজিল্যান্স টিমও নিয়মিত নজরদারি করছে। নিরাপদ ও রোগমুক্ত পশু নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি টিম হাটগুলোতে দায়িত্ব পালন করছে।
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেনাবেচা চলায় হাট এলাকায় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কয়েকটি হাটে পকেটমার, চোর ও অজ্ঞান পার্টির অপতৎপরতা ঠেকাতে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।
সাধারণ ক্রেতা আরমান মোল্লা বলেন, “এবার পশুর সরবরাহ ভালো। দামও অনেকটা ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকায় কেনাবেচা জমে উঠেছে।”
সরেজমিনে মালিগ্রাম ও মুনসুরাবাদ পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, ঈদের সাতদিন আগে থেকেই কেনাবেচা শুরু হলেও শেষ কয়েকদিনে হাটগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাটে চলছে জমজমাট বেচাকেনা।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিল্লুর রহমান জানায়, পরিবারের সঙ্গে কোরবানির পশু কিনতে এসে নিরাপদ পরিবেশে কেনাকাটা করতে পেরে ভালো লাগছে।
মালিগ্রাম হাটের কয়েকজন ক্রেতা জানান, প্রায় আট মণ মাংস হবে এমন একটি গরু ২ লাখ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে একটি ছাগল বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়।
দেওড়া অস্থায়ী হাটে পশু কিনতে আসা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সাত ভাগে কোরবানি দেওয়ার জন্য পরিচিত এক দালালের মাধ্যমে দরদাম করে দুই লাখ টাকায় একটি গরু কিনেছি।”
মুনসুরাবাদ হাট কমিটির সদস্য বাহাউদ্দীন জিতু বলেন, “দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর দেশীয় গরু হাটে আসছে। তবে অস্থায়ী হাট বেড়ে যাওয়ায় স্থায়ী হাটের ইজারাদাররা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।”
মালিগ্রাম হাটের ইজারাদার পারভেজ মিয়া জানান, প্রায় কোটি টাকা দিয়ে হাটের ইজারা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অস্থায়ী হাটের কারণে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার দাবি জানান তিনি।
হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে সড়ক ও মহাসড়কে যানজট নিরসনে আমরা কাজ করছি, যাতে ঘরমুখো মানুষ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।”
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “পশুর হাটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। জাল টাকা ও প্রতারণা রোধেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”
ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে অস্থায়ী হাট বসানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন