স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত ১০টা পর্যন্ত তাদের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১ হাজার ৭৩০টি ট্রিপের মাধ্যমে ৭ হাজার ৩৪১ টন কোরবানির বর্জ্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে অপসারণ করা হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, দুপুর ১২টা থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয় এবং তা আগামী আরও দুই দিন চলমান থাকবে। এ কাজে প্রায় ১৬ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৭৫২টি যানবাহন নিয়োজিত রয়েছে।
ডিএনসিসি আরও জানায়, সরকারের নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার আগেই বর্জ্য অপসারণ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ জন্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে নতুন সংযোগ সড়ক, প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্যবাহী যানবাহনের কার্যক্রম তদারকিতে ডিজিটাল ওয়েব্রিজের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ট্রিপ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
নগরবাসীর সুবিধার্থে ডিএনসিসি ১৬ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ বিতরণ করেছে। এছাড়া ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার, ১ হাজার ৩৪৮ ক্যান ফিনাইল ও ৩ হাজার ৯০০ ক্যান স্যাভলন সরবরাহ করা হয়েছে।
ঈদের নামাজ শেষে রাজধানীর মিরপুর সিরামিক রোড এলাকায় ডিএনসিসির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংস্থাটির ৭২ ঘণ্টার সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যান রয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) জানিয়েছে, ঈদের দিন রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তাদের আওতায় প্রায় ১৩ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। মধ্যরাত নাগাদ এ পরিমাণ ১৮ হাজার টন ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে নগর ভবনের শীতলক্ষ্যা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
তিনি জানান, ডিএসসিসি এলাকায় প্রথম দিনে মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৯টি পশু কোরবানি দেওয়া হয়েছে। এসব পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর প্রায় ৬৫ শতাংশ বর্জ্য ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭১টি শতভাগ বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে। বাকি চারটি ওয়ার্ডের প্রায় ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক নগরবাসীকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলার আহ্বান জানান।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি