স্টাফ রিপোর্টার: আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। দেশজুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা। সরকারি ছুটির আমেজে বাঙালির ঘরে ঘরে চলছে ঈদের নামাজ, কোরবানি, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় আর নানা আয়োজন। কিন্তু উৎসবের এই দিনে সবাই কি ছুটি পেয়েছেন? না, সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরবচ্ছিন্ন প্রয়োজনে কিছু মানুষ ঈদের আনন্দের বাইরে থেকেও দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
ঈদের দিনও কর্মব্যস্ত আছেন পুলিশ, প্রশাসন, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সেবার কর্মীরা। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার নিউজ পোর্টাল, টেলিভিশন ও রেডিও স্টেশনের সাংবাদিকরাও ছুটির দিনেও ছুটছেন খবরের পেছনে। মানুষের দোরগোড়ায় তথ্য পৌঁছে দিতে তাদের এই নিরলস প্রচেষ্টা ঈদের দিনেও থেমে থাকে না।
এবারের ঈদেও যখন বাসাবাড়িতে সেমাই, পোলাও, মাংস আর অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি, তখন অনেক সংবাদকর্মী সকাল থেকেই কর্মস্থলে। কেউ ঈদের নামাজ, কেউ কোরবানির হাট, কেউ আবার নগরজীবনের খোঁজ নিতে ছুটছেন মাঠে-ময়দানে। কোথাও ঈদ জামাতে মানুষের সমাগম, কোথাও পশুর হাট, কোথাও কোরবানির প্রস্তুতি কিংবা সড়কের ভোগান্তি—এসব খবর সংগ্রহ করে তারা পাঠাচ্ছেন নিজ নিজ নিউজরুমে।
মাঠে থাকা রিপোর্টাররা পকেটের মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও তুলে দ্রুত পাঠিয়ে দিচ্ছেন নিউজ ডেস্কে। এরপর নিউজরুমে বসে থাকা সহ-সম্পাদকরা সেই তথ্য যাচাই, শিরোনাম নির্ধারণ, ভাষাগত সম্পাদনা ও উপস্থাপনার কাজ করছেন। তাদের হাত ধরে খবরটি প্রকাশ পাচ্ছে ওয়েব পোর্টালে, প্রচার হচ্ছে টেলিভিশনের পর্দায়, ভেসে যাচ্ছে রেডিওর তরঙ্গে। ঈদের দিনেও তাই সংবাদপ্রবাহ থামে না।
সাংবাদিকদের জীবনে ঈদ মানে শুধু ছুটি নয়, বরং এক ধরনের পেশাগত দায়বদ্ধতা। বেশিরভাগ নিউজ পোর্টাল, টেলিভিশন ও রেডিও স্টেশনের সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রোস্টার অনুযায়ী ছুটি ভোগ করেন। ফলে একজনের ছুটির দিন অন্যজনের কাজের দিন হয়ে ওঠে। কেউ পরিবারের সঙ্গে ঈদ করছেন, কেউ আবার ডিউটির কারণে কর্মস্থলে থেকেও উৎসবের দায়িত্ব পালন করছেন।
অনেক রিপোর্টার ঈদের দিন ঘর থেকে বের হয়ে কাছাকাছি ঈদগাহে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষ না হতেই তাদের শুরু হয় সংবাদের তাড়না। কোথায় কত মানুষ ঈদের জামাতে অংশ নিলেন, কোথায় কোনো দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটল, কোরবানির হাটে কী অবস্থা, শহরে ভিড় কতটা—এসব তথ্য জোগাড় করাই তখন তাদের মূল কাজ। নামাজের পরপরই ফোনে তথ্য আদান-প্রদান, ছবি পাঠানো, হেডলাইন নির্ধারণ আর দ্রুততম সময়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
পেছনের নেপথ্য নায়কের ভূমিকায় থাকেন সহ-সম্পাদক, নিউজ এডিটর ও অনলাইন ডেস্কের কর্মীরা। রিপোর্টারের পাঠানো তথ্যের সত্যতা যাচাই, ভাষা পরিমার্জন, শিরোনাম নির্বাচন, অনুচ্ছেদ গঠন এবং প্রকাশযোগ্য রূপ দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় তারাই থাকেন নিরলস। একেকটি খবরের পেছনে থাকে তাদের সতর্কতা, ধৈর্য ও শ্রম।
সাংবাদিকদের অনেকের মনেই ঈদের দিনে বাড়ির পথে ফেরার আকাঙ্ক্ষা থাকে। কিন্তু হাজারো খবরের চাপ আর দায়িত্ববোধের কাছে ব্যক্তিগত সেই ইচ্ছা অনেক সময় চাপা পড়ে যায়। সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে তারা নিজেদের আনন্দ, সময় ও পারিবারিক মুহূর্তের অনেকটাই কোরবানি দেন। তবু এই পেশার মানুষদের কাছে সেটাই দায়িত্ব, সেটাই অঙ্গীকার।
খবরের পেছনের খবর তুলে আনা একজন সংবাদকর্মীর নিত্যদিনের কাজ। ঈদের দিনও সেই কাজের ব্যত্যয় ঘটে না। বরং উৎসবের মধ্যেও সংবাদ সংগ্রহের এই অবিরাম প্রচেষ্টা আরও স্পষ্ট করে দেয়—সংবাদপেশা কেবল পেশা নয়, এক নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্বও বটে। পর্দার আড়ালে থেকে নিউজরুমের তাড়াহুড়া, মাঠের ঘাম আর খবরের নেশায় কেটে যায় তাদের ঈদের দিন।
তাই ঈদের এই দিনে সাংবাদিকদের ত্যাগ, পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধও এক অর্থে উৎসবেরই অংশ। তাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টাই নিশ্চিত করে, সবাই যখন ঈদের আনন্দে মশগুল, তখনও দেশ-বিদেশের খবর পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের কাছে। আর এই নীরব কর্মযজ্ঞের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সংবাদকর্মীদের প্রকৃত ঈদ।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি