রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির ব্যস্ততা চোখে পড়েছে। প্রথম দিনে কসাই সংকট, উপযুক্ত স্থান না পাওয়া কিংবা ব্যক্তিগত নানা কারণে যারা কোরবানি সম্পন্ন করতে পারেননি, তাদের অনেকেই আজ পশু কোরবানি করছেন।
শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকেই উত্তরা, ধানমন্ডি, পুরান ঢাকা, মিরপুর, মান্ডা, বাড্ডা ও মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের দৃশ্য দেখা যায়। বাসাবাড়ি ও নির্ধারিত কোরবানির স্থানে সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় পার করেন নগরবাসী। কোথাও পরিবার-পরিজন মিলে মাংস ভাগ-বাটোয়ারা করছেন, আবার কোথাও কসাইদের সহায়তায় চলছে পশু প্রস্তুতের কাজ।
অনেক এলাকাতেই প্রথম দিনের তুলনায় আজ তুলনামূলক স্বস্তিতে কোরবানি সম্পন্ন করতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের প্রথম দিনে অতিরিক্ত চাপ থাকায় অনেকেই কসাই পাননি। এছাড়া নির্ধারিত স্থানে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণেও অনেকে কোরবানি পিছিয়ে দেন। দ্বিতীয় দিনে সেই চাপ অনেকটাই কমে আসায় সহজেই কোরবানি সম্পন্ন করতে পারছেন নগরবাসী।
এদিকে প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানীর বাইরে থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ মৌসুমি কসাই হিসেবে ঢাকায় এসেছেন। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকদিনের জন্য তারা পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার মাঝারি ও বড় আকৃতির একটি গরু প্রস্তুতে কসাইরা মজুরি নিচ্ছেন প্রায় ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ছাগল প্রস্তুতে নেওয়া হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। এলাকাভেদে ও পশুর আকার অনুযায়ী মজুরিতে কিছুটা ভিন্নতাও দেখা গেছে।
অন্যদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের তৎপর থাকতে দেখা গেছে। বর্জ্য দ্রুত সরিয়ে নেওয়ায় অনেক এলাকাতেই পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, ইসলামী বিধান অনুযায়ী ঈদুল আজহার প্রথম দিন থেকে শুরু করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন পর্যন্ত কোরবানি করা যায়। এ কারণে প্রতি বছরই ঈদের পরবর্তী দুই দিনেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম