রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফিরতি যাত্রায় যাত্রীচাপ তুলনামূলক কম থাকায় সড়ক, রেল ও নৌপথে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীর প্রধান প্রবেশপথ ও পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতি থাকলেও কোথাও অতিরিক্ত ভিড় কিংবা উল্লেখযোগ্য দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়নি।
রোববার (৩১ মে) সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের আসা-যাওয়া বৃদ্ধি পায়। তবে পরিবহন ব্যবস্থাপনা ছিল স্বাভাবিক এবং যাত্রীদের চলাচলেও ছিল স্বস্তির ছাপ।
দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় ফিরেছেন বিপুল সংখ্যক যাত্রী। সদরঘাটে পৌঁছানো যাত্রীরা জানান, নদীপথে যাত্রা ছিল নির্বিঘ্ন, আরামদায়ক এবং সময়ানুবর্তী। লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত যাত্রী থাকলেও অতিরিক্ত ভিড় দেখা যায়নি। বেশিরভাগ নৌযান নির্ধারিত সময়েই রাজধানীতে পৌঁছেছে বলে জানান তারা।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীগামী বাসগুলোতেও যাত্রীর চাপ ছিল স্বাভাবিক। বাস কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ সারি কিংবা টিকিট নিয়ে ভোগান্তির কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি। যাত্রীরা সহজেই বাস থেকে নেমে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।
যাত্রীচাপ তুলনামূলক কম থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যায়নি। এতে ঈদ শেষে রাজধানীতে ফেরা মানুষের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে ঈদের সময় নানা কারণে গ্রামে যেতে না পারা অনেকেই এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন। ফলে রাজধানীর পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে এক ধরনের দ্বিমুখী যাত্রার চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরছেন মানুষ, অন্যদিকে ছুটি কাটাতে বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাতে অনেকে রাজধানী ছাড়ছেন।
কমলাপুর রেলস্টেশন, বিভিন্ন বাস টার্মিনাল এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দুই দিকের যাত্রীর উপস্থিতি থাকলেও কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকামুখী ও গ্রামমুখী যাত্রীর চাপ দুই দিকে ভাগ হয়ে যাওয়ায় পরিবহন ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তিও কমেছে।
ফিরতি যাত্রায় থাকা অনেক যাত্রী জানান, ফাঁকা সড়ক, স্বাভাবিক যান চলাচল এবং পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধার কারণে এবারের ঢাকা ফেরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়েছে। তবে দিনের শেষভাগে এবং সন্ধ্যার দিকে রাজধানীমুখী মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি উপভোগ করেছেন। ছুটি শেষে সোমবার থেকে অফিস-আদালত, ব্যাংকসহ অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুলে যাচ্ছে। ফলে কর্মস্থলে যোগ দিতে রাজধানীতে ফেরার চাপ দিন শেষে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম