রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৩১ মে) ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার এবং ফুসফুসজনিত দীর্ঘমেয়াদি রোগসহ নানা অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে তামাককে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এফসিটিসিতে স্বাক্ষর, ২০০৪ সালে অনুসমর্থন এবং ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করেছে। পরবর্তীতে সময়োপযোগী সংশোধনের মাধ্যমে আইন আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
বাণীতে আরও বলা হয়, তামাকজাত পণ্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও স্পনসরশিপ ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাক প্রচারণা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (CSR) আড়ালে তামাক কোম্পানির প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার মাঠ ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ এবং ১৮ বছরের নিচে তামাকজাত পণ্য বিক্রিও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানা বাড়ানো হয়েছে বলেও বাণীতে উল্লেখ করা হয়।
তিনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। সরকারের পাশাপাশি জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি সুস্থ ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে বাণীতে বলা হয়, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগে ঘটে, যার একটি বড় কারণ তামাক ব্যবহার। এছাড়া টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণার বরাত দিয়ে আরও বলা হয়, তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস মিলিয়ে দেশে বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম