বিনোদন ডেস্ক: রূপালি পর্দা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের নিখুঁত উপস্থিতি দেখে অনেকেই নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগেন। তবে এই তথাকথিত ‘পারফেক্ট’ সৌন্দর্যের ধারণা যে অনেকাংশেই কৃত্রিম, সেই বাস্তবতাই তুলে ধরেছেন বলিউড অভিনেত্রী তাপসী পান্নু। নারীদের শরীর নিয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব সম্পর্কে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাপসী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নিখুঁত ছবি প্রকাশ করার জন্য অনেক নারী নিজেদের শরীরের ওপর অস্বাভাবিক ও অস্বাস্থ্যকর চাপ সৃষ্টি করেন। এই প্রবণতা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তার ভাষায়, অনেকেই আদর্শ বা ‘পারফেক্ট’ শারীরিক গঠন পাওয়ার লক্ষ্যে নিজের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন। কিন্তু শুধুমাত্র ইনস্টাগ্রামে আকর্ষণীয় দেখানোর জন্য শরীরকে কষ্ট দেওয়া কখনোই উচিত নয়। বাস্তব জীবন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা ছবির মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে।
তাপসী আরও বলেন, সাধারণ মানুষ প্রায়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি সুন্দর ছবি দেখে সেটাকেই বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি মনে করেন। অথচ একটি ছবির পেছনে দীর্ঘ প্রস্তুতি, বিশেষ আলোকসজ্জা, মেকআপ, ক্যামেরার কারসাজি কিংবা সম্পাদনার মতো নানা বিষয় কাজ করে, যা দর্শকের চোখের আড়ালেই থেকে যায়।
সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজ করার সময় বেশ কয়েকবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে ক্যামেরায় শরীরকে নির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করার জন্য তাকে বিশেষ ধরনের পোশাক ও ‘প্যাডেড ব্রা’ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
তাপসীর দাবি, শুটিং সেটে এমন নির্দেশনা তাকে বিব্রত ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলত। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং শরীর নিয়ে কৃত্রিম মানদণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেছেন।
তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর সৌন্দর্যচর্চা এবং শরীর নিয়ে অযৌক্তিক প্রত্যাশার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম