রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: যশোরের চৌগাছায় গ্রেপ্তারের পর কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নাটক সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলাটির সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এ মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন তিনজন আসামি। তারা হলেন চৌগাছা থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান এবং কনস্টেবল জহরুল হক। অন্যদিকে পলাতক রয়েছেন তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান, উপ-পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান, এসআই জামাল এবং এসআই মাজেদুল।
এর আগে গত ২০ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। অভিযোগ গঠনের সময় গ্রেপ্তার আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। পরে আজকের দিনটি সাক্ষ্যগ্রহণ ও সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নির্ধারণ করা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির না করে টানা দুই রাত নির্যাতন করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, এরপর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের পায়ে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় চালান দেওয়া হয়। পরে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
আরও বলা হয়, গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের চিকিৎসায় অবহেলার কারণে ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত একজন ভুক্তভোগীর পা কেটে ফেলতে হয়।
এ ঘটনায় বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম