ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন, যাদের মধ্যে পাঁচ শিশু ও ছয় নারী রয়েছেন। রোববার ভোরে লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার দেইর জাহরানি শহরে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় হামলাটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১৩ জানিয়েছে, দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব বর্তমানে লেবাননে হামলার পরিধি ও গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। এমনকি রাজধানী বৈরুতেও হামলা চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে একটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অভিযানের পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং হামলা সম্প্রসারণের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহানেস ওয়াডেফুল বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর অগ্রযাত্রা গভীর উদ্বেগের কারণ। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত আরও বাড়লে লেবাননের মানবিক সংকট তীব্র হবে এবং নতুন করে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সংঘাত প্রশমনের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈরুতে হামলা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন সংকটের মুখে পড়তে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ