রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই নেতা কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়েছেন—জেলা প্রশাসকের এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
রোববার (৩১ মে) রাতে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। ভিডিওতে তিনি দেবিদ্বার উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তার বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা নেওয়ার যে দাবি করা হচ্ছে, তা “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। তার দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪–২৫ ও ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেবিদ্বার উপজেলার উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, তিনি একটি ওয়েবসাইট থেকে বরাদ্দের তালিকাও প্রকাশ করেছেন, যেখানে দেখা যায় দেবিদ্বারে মোট ১৪৮টি উন্নয়ন প্রকল্পে ২০২৪–২৫ ও ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রায় ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্যমতে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এডিপি সাধারণ খাতে ৪টি প্রকল্পে ২৩ লাখ টাকা, এডিপি বিশেষ খাতে ৭৬টি প্রকল্পে ৬ কোটি ২ লাখ টাকা এবং রাজস্ব/নিজস্ব খাতে ২৩টি প্রকল্পে ৮১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এডিপি সাধারণ খাতে ১২টি প্রকল্পে ৩৭ লাখ টাকা এবং এডিপি বিশেষ খাতে ৩৩টি প্রকল্পে ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জনগণের আমানত রক্ষা করা আমার প্রধান দায়িত্ব। উন্নয়ন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই সফল হবে না।
তিনি বরাদ্দ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয়ে যেকোনো তদন্তকে স্বাগত জানান এবং জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম