রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার চার্জ গঠনের শুনানিতে নতুন মোড় এসেছে। আদালতে তোলার সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজ স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করে ‘ডলার’ নামে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে দাবি করেছেন।
যদিও এই ‘ডলার’ কে- তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, ফলে মামলায় নতুন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) চার্জ গঠনের শুনানির জন্য কারাগার থেকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। এদিন সকাল থেকেই তাদের ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর বিচারকের এজলাসে তাদের উপস্থিত করা হয়।
আদালতে আনার সময় সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে গিয়ে সোহেল রানা দাবি করেন, তিনি একা নন, বরং ঘটনার পেছনে ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কোনোভাবেই জড়িত নন এবং তাকে ভুলভাবে আসামি করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ডিএনএ পরীক্ষা সঠিকভাবে না করে অটোমেটিকভাবে লেখা হয়েছে।
ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার একজন অনেক টাকাওয়ালা ব্যক্তি। তিনি ওই ব্যক্তির পূর্ণ পরিচয় বা অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু না জানালেও সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, মেইন আসামি ডলারকে ধরেন, সে-ই রামিসাকে হত্যা করেছে।
‘ডলার’ কে, তদন্তে অজানা পরিচয়
এই বক্তব্যের পর মামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ডলার’ নামটি। যদিও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দিতে পারেননি।ফলে সোহেল রানার উত্থাপিত ‘ডলার’ পরিচয় এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে যাচাই করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
‘ডলার’ সম্পর্কিত বক্তব্যকে ‘ম্যাটার অব ট্রায়াল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) আজিজুর রহমান দুলু।
তিনি বলেন, আসামি যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন, সেগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ার (ম্যাটার অব ট্রায়াল) বিষয়।
তার ভাষায়, ম্যাটার অব ট্রায়াল নিয়ে কোনো মামলার ডিসচার্জ হয় না। পুলিশ রিপোর্টে যেটা আমরা পাইনি, সে বিষয়ে প্রসিকিউশনের কিছু বলার নেই। আর ডিফেন্স থেকে যা বলা হয়, সেগুলো ম্যাটার অব এভিডেন্স, যা প্রমাণের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তিনি আরও বলেন, মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছে। আমরা সম্পূর্ণ আশাবাদী যে এই মামলায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে।
স্পেশাল পিপি জানান, আসামির বক্তব্য বিচার চলাকালীন সময়ের বিষয়, যা সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম