নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফেরি ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৩১ মে) রাতে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে নোঙর (বন্ধ) করা অবস্থায় ফেরি ‘মহানন্দা’তে এ ঘটনা ঘটে। এসময় হান্নান মাসউদকে যাত্রীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানায়, ফেরি মহানন্দা রোববার বিকেল সোয়া ৪টায় ছেড়ে আসে। যেটি বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে নলচিরা ঘাটে পৌঁছে। পরবর্তী ফেরি লোড আনলোড ও মাল-গাড়ি উঠানামা করতে সোয়া এক ঘণ্টা সময় লাগে। সেই হিসেবে ৭টার কিছুক্ষণ আগে বা পরে ফেরি চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সে ফেরি ছাড়ে প্রায় রাত ৯টার সময়। বিকেল থেকে মোটরসাইকেলসহ গাড়িগুলোর জন্য কাউন্টারে বুকিং নিলেও ফেরি আনলোড হওয়ার পর গাড়ি তুলতে দেওয়া হয়নি। এতে মানুষজন প্রচণ্ড গরমে ভোগান্তিতে পড়ে।
একাধিক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কেন ফেরি ছাড়া হচ্ছে না কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান এমপি সাহেব আসবেন, তারপর ছাড়া হবে। একজন জনপ্রতিনিধির জন্য এতোগুলো মানুষ যদি কষ্ট করতে হয়, তাহলে উনি কেমন জনপ্রতিনিধি। তাছাড়া সঠিক সময়ে চেয়ারম্যান ঘাট, সোনাপুর ও জেলা শহর মাইজদী গিয়ে বাসে না উঠতে পারলে রাতের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। সারারাত বাস কাউন্টারে বসে থাকতে হবে, আবার আগামীকাল অফিসেও যাওয়া যাবে না।
ফেরি মহানন্দার মাস্টার মোজাম্মেল হক জানান, ৫টা ৪০ মিনিটে আমাদের ফেরি নলচিরা ঘাটে পৌঁছে। আনলোড ও লোডে গড়ে ৪০ মিনিট করে সময়ের দরকার হয়। আমাদের কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এমপি সাহেব আসবেন ফেরি ছাড়তে একটু দেরি হবে। তাই আমরা প্রথমে গাড়িগুলো উঠাতে দেয়নি। এনিয়ে যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। পরে রাত ৮টার পর আমরা চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশ্য ছেড়ে আসি। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনা ৪৫ মিনিট বা ১ ঘণ্টা দেরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সাংসদ আবদুল হান্নান মাসউদের মোবাইল নাম্বারে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে এই বিষয়ে সাংসদ হান্নান মাসুদের পক্ষে তাঁর অনুসারীরা সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পোষ্ট করেন। তাতে তারা ফেরি ঘাটের অনিয়মের বিষয়ে তিনি ঘাট পরিদর্শনে গেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। একটি গ্রুপ এই বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছেন বলে তারা প্রচার করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব