ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা চলতে থাকলে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা খুবই প্রবল বলে সোমবার জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, লেবাননে হামলা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ফলে গোটা অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েল অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়ার প্রতিবাদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা তেহরান স্থগিত করছে বলে জানায়।
তাসনিম জানায়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যে বার্তা আদান-প্রদান চলছিল, তা লেবাননে হামলার প্রতিবাদে ইরানের আলোচকরা ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছেন।
ইরানের এই সিদ্ধান্ত তিনমাসের যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও আলোচনা বন্ধের বিষয়টি ইরানি কর্মকর্তা, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল কোনও পক্ষই এখনও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে জানায়নি।
তবে শান্তি আলোচনা চলার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলার পর তাসনিম বার্তা সংস্থার আলোচনা স্থগিতের সিদ্ধান্তের খবরটি সংকটের দ্রুত সমাধানের আশায় নতুন করে পানি ঢেলেছে।
ইরান কর্তৃপক্ষ তাসনিমের এই খবর নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করলেও এবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে বলা হল, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
লেবাননের প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করতে ইসরায়েলি সেনাদের দেশটির আরও ভেতরে অনুপ্রবেশের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ছয় সপ্তাহ আগে লেবাননের সঙ্গেড় একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়ার পরও রোববার এ নির্দেশ দেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরকচিও এরই মধ্যে লেবানন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন। এক্সে তিনি লেখেন, “লেবাননে আরেকটি যুদ্ধবিরতি বহাল আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে থাকা মানে সবদিকেই সমানভাবে যুদ্ধবিরতিতে থাকা। একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে, সবদিকেই তা লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে। যুদ্ধবিরতির কোনওরকম লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই দায়ী।
যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে নিজেদের যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা- দুটো বিষয়কে আলাদা রাখতে চেষ্টা করছে।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে ধীরে ধীরে উত্তেজনা প্রশমনের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম