চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হল-এ আবারও ছাদের পলেস্তারা ও আস্তরণ খসে পড়ার ঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন এক আবাসিক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হল ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়ে সতর্ক করা হলেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় প্রতিনিয়ত জীবনঝুঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে তাদের।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হল সূত্রে জানা যায়, ২ জুন (মঙ্গলবার) শাহজালাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রায়হান মেইন বিল্ডিংয়ের গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় তার মাত্র এক কদম সামনে ওপর থেকে হলের ছাদের একটি বড় অংশ বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে। মাত্র এক সেকেন্ডের ব্যবধানেই এড়ানো যায় সম্ভাব্য প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। ঘটনার পর রায়হান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে সহপাঠীরা জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কয়েক মাস আগে একই হলে আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মিসবাহর ঘাড়ে ছাদের পলেস্তারা পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া ৩৩৫ নম্বর কক্ষের সামনেও ছাদের বড় অংশ ভেঙে পড়ে, যার আঘাতে একটি বালতি ফেটে যায়। বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে শাহজালাল হল সংসদের ভিপি আলাউদ্দীন সন্দ্বীপী জানান, “বিগত দেড় বছর ধরে শুনে আসছি, শাহজালাল হলের ফিটনেস টেস্ট হবে। কিন্তু এ কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। নির্বাচিত হওয়ার পর আমরা বেশ কয়েকবার দাবি জানিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “সম্ভবত আমাদের কারও মৃত্যু না হলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে না। আজ যদি একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত, এর দায়ভার কে নিত? চাকসু, নাকি প্রশাসন?”
হলটির আবাসিক শিক্ষার্থী শেখ শফিউদ্দিন সোহল বলেন, “আর কতবার ছাদ ভাঙবে, আর কতজন আহত হবে, কিংবা একটি প্রাণহানি ঘটলেই কি কেবল প্রশাসনের টনক নড়বে?”
ঘটনার পর থেকে হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে হল ভবনের পূর্ণাঙ্গ কাঠামোগত পরীক্ষা (ফিটনেস টেস্ট), ঝুঁকিপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করে সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে হল প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন