রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও জনবান্ধব করতে একাধিক বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের পাঁচটি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব হাসপাতাল উদ্বোধন করা হবে।
বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় নির্মিতব্য পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হাসপাতালগুলো চালু করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, প্রতিটি হাসপাতালে আধুনিক আইসিইউ, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রেখে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। উন্নতমানের শিশু চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা দিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এসব হাসপাতালের প্রতিটিতে প্রায় ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবল প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনবল অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক কোড সংগ্রহ করে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের সংকট ও অব্যবস্থাপনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও অবহেলায় স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা সেই দুর্নীতির চক্র থেকে বেরিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।
তিনি বলেন, দেশের চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের নকশা ও পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারেন।
এদিকে মিটফোর্ড হাসপাতাল-এর কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে সেখানে নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও অবৈধ সাবলেটিংয়ের কারণে ভবনগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও একটি বড় প্রকল্পের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে পাঁচটি এক হাজার শয্যার বিশেষায়িত নারী হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। দেশের পাঁচটি বড় শহর বা শহরসংলগ্ন এলাকায় অত্যাধুনিক নকশায় এসব হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, নারীদের জন্য নিবেদিত এই হাসপাতালগুলো হবে আন্তর্জাতিক মানের। উন্নত চিকিৎসা, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত সেবার সমন্বয়ে এগুলো দেশের স্বাস্থ্যখাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এসব প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১৫ আগস্ট নতুন কিছু স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর উদ্বোধনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, জনবল ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, চিকিৎসা অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম