রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা চাঞ্চল্যকর মামলায় আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। বহুল আলোচিত এই মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বেলা ১১টা ১০ মিনিটে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শুরু হয়। এর আগে কারাগার থেকে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়।
শুনানির শুরুতে আদালত সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান। এরপর আসামিদের বক্তব্য জানতে চাইলে সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে খালাস প্রার্থনা করেন।
তিনি বলেন, “আমি নির্দোষ, আমাকে খালাস দিন। আমার একটি সন্তান আছে, আমাকে মাফ করে দেন।” তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই এবং তা স্ত্রীও নির্দোষ। তবে আদালত তাকে ব্যক্তিগত বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে নির্দেশ দেন।
এরপর আদালতে বক্তব্য দেন তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। তিনি বলেন, “আমি কিছু করিনি, আমি নির্দোষ।” আদালত তাকে প্রশ্ন করেন, ঘটনার সময় দরজা কেন খোলা হয়নি—এর কোনো ব্যাখ্যা আছে কিনা। একই সঙ্গে আদালত তাকে সতর্ক করে বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের শাস্তি একই হতে পারে।
স্বপ্না আক্তার পুনরায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
দুই আসামির বক্তব্য রেকর্ড শেষে আদালত এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন ভিকটিমের বাবা-মা, পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তারা। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।
মামলার অগ্রগতির অংশ হিসেবে এর আগের দিন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। গত ২৪ মে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয় এবং পরে মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে মিরপুরের পল্লবীর পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা নিখোঁজ হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন ২০ মে নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে আসামিদের যুক্তিতর্ক শোনার পর আগামীকাল মামলার গুরুত্বপূর্ণ পর্ব যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ তাদের চূড়ান্ত অবস্থান তুলে ধরবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম