প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 03-06-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ বিজিবির প্রতিরোধ, পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ব্যক্তিদের সরিয়ে নিল বিএসএফ
বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল সীমান্তের শূন্যরেখার সাদিপুর মাঠে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা কথিত বাংলাদেশিদের তিন দিন পর মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এতে সীমান্তে বিরাজমান উত্তেজনা কমেছে। তবে তারা অন্য কোনো সীমান্তপথ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, নাকি ভারতের ভেতরেই অবস্থান করছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিজিবির দাবি, বেনাপোল সীমান্তে তাদের কঠোর অবস্থানের কারণেই বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
বুধবার সকালে সীমান্ত থেকে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। শূন্যরেখা থেকে তাদের সরিয়ে নেওয়ার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অতিরিক্ত মোতায়েন করা সদস্যদেরও প্রত্যাহার করেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম চলছে।
এর আগে সাদিপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পুশইনকে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ সময় সীমান্তের শূন্যরেখায় কয়েকজন মানুষ আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফ এসব ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করেই বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ উদ্দেশ্যে তাদের সীমান্তের শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখা হয়। খোলা আকাশের নিচে প্রখর রোদে ঝোপঝাড়ের মধ্যে অবস্থান করায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
তবে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিকত্বের পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণপত্র বা তথ্য না পাওয়ায় তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় বিজিবি। নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
এর আগে রোববার (৩১ মে) রাতে বেনাপোল সীমান্তের ওপারে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় তিনটি ট্রাকে করে শতাধিক মানুষকে জড়ো করে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। কিন্তু বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তের ভারতীয় অংশে আরও শতাধিক মানুষকে অবস্থান করিয়ে রাখা হয়েছিল।
অবৈধ পুশইনের আশঙ্কায় বেনাপোল সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে বিজিবি। সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, রাতের টহল বৃদ্ধি এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও। বিশেষ করে ভারতে জন্মগ্রহণকারী ও দীর্ঘদিন বসবাসকারী অনেক মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বেনাপোলের সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান লিটু বলেন, সীমান্তে এখন আর জড়ো হওয়া মানুষদের দেখা যাচ্ছে না। তবে বিএসএফ অন্য কোনো সীমান্তপথ ব্যবহার করতে পারে। তাই বিজিবিকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশপ্রেমের জায়গা থেকে গ্রামবাসী বিজিবিকে সার্বিক সহযোগিতা করছে।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, “বিএসএফ যদি প্রচলিত নিয়ম ও দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাউকে ফেরত পাঠায়, তাহলে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের গ্রহণ করা হবে। কিন্তু কোনো নিয়ম-নীতি না মেনে জোরপূর্বক কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। মঙ্গলবার বিকেল থেকে সীমান্তে জড়ো করা ব্যক্তিদের বিএসএফ সরিয়ে নেওয়ায় তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। তবে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।”