স্পোর্টস ডেস্ক: সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা ধরে রাখার মিশন ব্যর্থ হওয়ার পর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং সবকিছু বিবেচনা করেই নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছেন এই ব্রিটিশ কোচ।
ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্বাগতিকদের কাছে ৩-১ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়ে আসরের সমাপ্তি ঘটায় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেন, তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরই তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
তিনি বলেন, আমি এখানে আসার পর থেকে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন আমাকে ভাবতে হবে আমি কী করতে চাই। হয়তো নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ খুঁজছি, তবে এখনই কিছু চূড়ান্ত নয়।
দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে কাজ করতে গিয়ে নারী ফুটবল দলের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বাটলার। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব তাকে নতুন চ্যালেঞ্জের কথা ভাবতে বাধ্য করছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ফাইনালে হারের পরও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বাটলার বলেন, স্কোরলাইন সবসময় ম্যাচের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। আমি মেয়েদের চেষ্টায় গর্বিত। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়রা দারুণ খেলেছে।
গোলরক্ষক রূপনা চাকমাকে পুরো টুর্নামেন্টে মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। বাটলার বলেন, সে আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। থাইল্যান্ডে সুযোগ পেয়েও প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি। মিলি ভালো ফর্মে ছিল, তাই তাকেই বেছে নিয়েছি। ভুল করা খেলারই অংশ।
শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে বাংলাদেশ কোচ বলেন, আমি কোনো অজুহাত দিতে আসিনি। টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর সব দায় আমার। জবাবদিহি আমাকে করতেই হবে।
গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারের তুলনায় ফাইনালে দল ভালো খেলেছে বলেও মনে করেন বাটলার। তার ভাষায়, অনেক সময় ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আনিকার চোটের পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ঋতুপর্ণা, মারিয়া ও আফরিনের মতো তরুণরা ভালো খেলেছে। তবে কয়েকজন খেলোয়াড় ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তাদের লড়াই করতে হবে, না হলে বিকল্প খুঁজতে হবে।
একাডেমির কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে নারী দলের দায়িত্ব পালন করছেন পিটার বাটলার। বাফুফের সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের অনুরোধে আমি এই দায়িত্ব নিয়েছিলাম। আমি নিজেকে সংকটমোচনকারী হিসেবেই দেখি। এখন আমাকে ফিরে গিয়ে ভাবতে হবে আমি কী করতে চাই। হয়তো অন্য কোথাও নতুন চ্যালেঞ্জ নেব। তবে আমি বিশ্বাস করি, এখানে আমি ভালো কাজ করেছি।